শুরুটা বাজে হলেও শেষদিকে বোলাররা দুর্দান্ত ভাবে ফিরে এসেছিলেন। মাত্র ৪৩ রানে শেষ ৭ উইকেট তুলে পাকিস্তানকে মাঝারি সংগ্রহেই আটকে রেখেছিলেন তাসকিন-মিরাজ-নাহিদরা। কিন্তু ব্যাটারদের কুৎসিত ব্যাটিংয়ে লড়াইও করতে পারেনি স্বাগতিকরা। বৃষ্টিতে খেলা থামার আগে শুরুতেই ব্যাটিং বিপর্যয়, এরপর লিটনের ব্যাটে কিছুটা আশা জাগলো! তবে তিনি ফেরার পর তাওহীদ হৃদয়-আফিফ হোসেনদের অদ্ভুত ব্যাটিংয়ে হার নিয়ে মাঠ ছাড়ে টাইগাররা।
মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শুক্রবার সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে পাকিস্তানের বিপক্ষে বৃষ্টি আইনে ১২৮ রানে হেরেছে বাংলাদেশ। টস হেরে আগে ব্যাটিং করে ২৭৪ রানে অলআউট হয় পাকিস্তান। জবাবে বৃষ্টি বাধায় বাংলাদেশের সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় ৩২ ওভারে ২৪৩। সেটা তাড়ায় ১১৪ রানে গুটিয়ে যায় স্বাগতিকরা। এই জয়ে সিরিজে ১-১ ব্যবধানে সমতা ফেরালো পাকিস্তান। ফলে আগামী রোববার সিরিজের শেষ ম্যাচ অঘোষিত ফাইনাল।
রান তাড়ায় শুরুটা হয় দুঃস্বপ্নের মতো। ১৫ রানেই ৩ উইকেট হারিয়ে ফেলে বাংলাদেশ। শাহিন শাহ আফ্রিদিকে বড় শট খেলতে গিয়ে বাউন্ডারিতে ক্যাচ দেন তানজিদ হাসান তামিম, ৭ বলে করেন মাত্র ১ রান। পরের বলেই মোহাম্মদ ওয়াসিমের বলে মিডঅফে সহজ ক্যাচ তুলে দেন সাইফ হাসান (১২ বলে ১২)।
নাজমুল হোসেন শান্তও এদিন উইকেটে থিতু হতে পারেনন। শাহিন আফ্রিদির বলে ব্যাট পাতার আগেই উড়ে যায় স্টাম্প। ফেরেন শূন্য রানে। ৬.৩ ওভারে ৩ উইকেটে ২৭ রান তোলার পর খেলা বন্ধ হয়ে যায়। বৃষ্টি থামার পর রাত ৯টা ৩৫ মিনিটে ফের খেলা শুরু হয়। তখন বৃষ্টি আইনে বাংলাদেশের সামনে নতুন লক্ষ্য দাঁড়ায় ২৪৩ রান। ফলে ২৫.৩ ওভারে ২১৬ রান করতে হতো স্বাগতিকদের।
নতুন লক্ষ্য তাড়ায় লিটন দাস ও তাওহীদ হৃদয়ের ব্যাটে শুরুটা ভালোই হয়। নবম ওভারে দুজনেই হাকান একটি করে চার। দশম ওভারে হারিস রউফকে মারেন একটি করে চার ও ছক্কা। ত্রয়োদশ ওভারে আরেকটি ছক্কা মারার পরের বলে সুইপ করতে গিয়ে লেগ বিফোর উইকেটের শিকার হন লিটন। তার আগে করেন ৩৩ বলে ৪১ রান। তখনই মূলত বাংলাদেশের হার অনেকটাই নিশ্চিত হয়ে যায়!
এরপর ব্যাটিংয়ে নামা আফিফ হোসেন যেন লক্ষ্যটাই ভুলে গিয়েছিলেন! দেড় বছর ওয়ানডেতে ব্যাটিংয়ে নেমে আরেকটি কুৎসিত ইনিংস (১৫ বলে ১৪) খেলে দলকে বিপদে ফেলে আউট হন। আর লিটন আউট হওয়ার পর হৃদয়ও যেন খোলসে ঢুকে যান! এরপর অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ ও রিশাদ হোসেন দুজনই দ্রুত ফিরে যান। অষ্টম ব্যাটার হিসেবে আউট হওয়ার আগে ২৮ রান করেন তিনি। হৃদয় আর, লিটন আর রিশাদই, তিনজনই পার্ট টাইম স্পিয়ার মাজ সাদাকাতের বলে উইকেট বিলিয়ে দেন।
এর আগে ব্যাটিংয়ে নামা পাকিস্তান শুরুটা করে দুর্দান্ত, সাহিবজাদা ফারহান আর মাজ সাদাকাত ১৩ ওভারের আগেই দলকে পার করে দেন ১০০ রানের গণ্ডি। ১০৩ রানের উদ্বোধনী জুটি ভাঙেন মেহেদী হাসান মিরাজ। ৩১ বলে টি-টোয়েন্টি মেজাজে ফিফটি করা মাজ সাদাকাতকে উইকেটরক্ষক লিটন দাসের ক্যাচ বানান বাংলাদেশ অধিনায়ক। ৪৬ বলে ৬ চার আর ৫ ছক্কায় সাদাকাত করেন ৭৫।
এরপর আরেক ওপেনার সাহিবজাদাকে তুলে নেন তাসকিন আহমেদ। তাসকিনের বলে ডিপ থার্ডম্যানে তাওহিদ হৃদয়কে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন সাহিবজাদা (৩১)। নাহিদ রানার বলে পুল করতে গিয়ে থার্ড ম্যানে মোস্তাফিজুর রহমানকে ক্যাচ দেন শামিল হোসেন (৬)। ১৯ রানের মধ্যে ৩ উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচে ফেরে বাংলাদেশ।
তবে চতুর্থ উইকেটে আবার জুটি গড়েন মোহাম্মদ রিজওয়ান আর সালমান আলি আগা। এক পর্যায়ে ৩ উইকেটে ২৩১ রান তুলে ফেলেছিল পাকিস্তান। মনে হচ্ছিল, স্কোর অনায়াসে ৩০০-৩৫০ হয়ে যাবে। তবে মেহেদী হাসান মিরাজের বুদ্ধিদীপ্ত এক রানআউটের পর দৃশ্যপট বদলে যায়। ৬২ বলে ৬৪ রান আসে আগার ব্যাট থেকে। এর এক বল পরেই উইকেট বিলিয়ে দেন আরেক সেট ব্যাটার রিজওয়ান (৪৪)। হুসাইন তালাতকে (৯) বোল্ড করেন রিশাদ হোসেন। ৭ বলে ১১ করে রানআউট হন আবদুল সামাদ। ২৫৪ রানে পাকিস্তান হারায় ৭ উইকেট। ১০৯ রানের জুটি ভাঙার পর ৪৩ রানে শেষ ৭ উইকেট হারায় পাকিস্তান। ৪৭.৩ ওভারে অলআউট হয় ২৭৪ রানে।
এসকেডি/এসআর