দেশজুড়ে

বাড়ি থেকে বের হতে পারছেন না পৌর এলাকার লক্ষাধিক মানুষ

পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকায় দুর্ভোগে পড়েছেন সাতক্ষীরা পৌরবাসী। প্রথম শ্রেণির পৌরসভা হলেও নেই অনেক সুযোগ সুবিধা। সামান্য বৃষ্টি হলেই তলিয়ে যায় পৌরসভার নিম্নাঞ্চলগুলো।

হাঁটু সমান পানি জমেছে সড়কে। ঘর-বাড়ির মধ্যেও পানি। চলাফেরাসহ নানা দুর্ভোগে পড়েছেন পৌরসভার লক্ষাধিক মানুষ।

জলাবদ্ধতায় পানিবন্দি হয়ে পড়েছে পৌরসভার মাঠপাড়া, উত্তরকাটিয়া, মাগুরা, পলাশপোল, মাছখোলা, সুলতানপুর ঝিলপাড়া, পুরাতন সাতক্ষীরা, রাজারবাগান, বদ্দিপুরসহ বিভিন্ন এলাকা। এছাড়া সদর উপজেলার লাবসা, আগরদাড়ি, ঝাউডাঙা, ফিংড়ি ও ব্রক্ষরাজপুর ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকা পানিবন্দি।

ওইসব এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, নদীতে নাব্যতা না থাকা ও অপরিকল্পিতভাবে মাছের ঘের, ঘর-বাড়ি তৈরি করায় সৃষ্টি হয়েছে এমন জলাবদ্ধতার। জনপ্রতিনিধিরা আশ্বাস দিলেও বাস্তবে কাজের মিল নেই।

সাতক্ষীরা নাগরিক কমিটির যুগ্ম সদস্য সচিব আলী নুর খান বাবলু বলেন, সাতক্ষীরা পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ড বদ্দিপুর, ৭ নম্বর ওয়ার্ড ইটাগাছা, ৮নং কামালনগর, পলাশপোলের একাংশ, ৯নং ওয়ার্ড পলাশপোল ও রসুলপুরের কিছু এলাকার লক্ষাধিক মানুষ আজ পানিবন্দি। মূল কারণ বেতনা, মরিচ্চাপ ও শহরের প্রাণ সায়ের খাল দিয়ে পানি নিষ্কাশিত না হওয়া।

তিনি বলেন, ইটাগাছার বিলে রজব আলী, লিটন, সিরাজুল ও ফজলু অপরিকল্পিতভাবে বাঁধ দিয়ে মাছের ঘের করায় এ অঞ্চলে সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা। এখনই যদি পানি নিষ্কাশনের পথগুলো সচল করা না হয় তবে আগামীতে বর্তমানের থেকেও তিনগুন বেশি এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হবে। শুধু পৌরসভা নয় আগরদাড়ি, ফিংড়ি, লাবসা, ঝাউডাঙা, ব্রক্ষরাজপুর ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকা এখন পানিবন্দি।

পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডের বদ্দিপুর এলাকার বাসিন্দা আজগর আলী জানান, বাইরে বের হওয়ার কোনো উপায় নেই। রাস্তায় হাঁটু সমান পানি। ঘরের মেঝেতে পানি। সিমাহীন দুর্ভোগে রয়েছি আমরা।

একই এলাকার গৃহবধূ বিলকিস নাহার বলেন, দৈনন্দিন কাজের জন্য সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। পানিতে হাটলে চুলকানি হচ্ছে। পানিবাহিত রোগ দেখা দিচ্ছে। পৌর কর্তৃপক্ষ এসব এলাকার পানি নিষ্কাশনের জন্য আশ্বাস দিলেও পানি নিষ্কাশন করেনি। বর্তমানে কোনো জনপ্রতিনিধিদেরও এলাকায় দেখা যাচ্ছে না।

জলাবদ্ধতার বিষয়ে জানতে সাতক্ষীরা পৌরসভার মেয়র শেখ তাসকিন আহমেদ চিশতিকে একাধিকবার কল দিলেও তিনি ফোনকল রিসিভ করেননি।

তবে সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ড-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল খায়ের বলেন, পৌরসভার পানি নিষ্কাশনের একমাত্র পথ প্রাণ সায়ের খালটি খননের জন্য সরকার ৫ কোটি ৩৬ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। খনন কাজ শুরু হয়েছে।

সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক এস.এম মোস্তফা কামাল বলেন, শহরবাসীকে জলাবদ্ধতার হাত থেকে মুক্ত করতে প্রাণ সায়ের খালটি খননের জন্য কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। খাল খননে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিকারী খালের পাড়ে থাকা অবৈধ স্থাপনাগুলো উচ্ছেদ করা হয়েছে। আশাকরি খাল খনন সম্পন্ন হলে শহরবাসী জলাবদ্ধতার হাত থেকে মুক্তি পাবে।

আকরামুল ইসলাম/এমএএস/এমকেএইচ