বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় পুলিশের ভয়ে বাঙালি নদীতে ঝাঁপ দিয়ে নিখোঁজের ২০ ঘণ্টা পর আব্দুল হাই (৪৮) নামে এক সহকারী অধ্যাপকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার (৭ অক্টোবর) বিকেল ৪টার দিকে শেরপুর উপজেলার বাঙালি নদীর চকনশি ঘাট এলাকা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত আব্দুল হাই ধুনট উপজেলার বেলকুচি গ্রামের মোজাম্মেল হকের ছেলে এবং সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার আমিনা মুনছুর ডিগ্রি কলেজের সমাজ বিজ্ঞান বিষয়ের সহকারী অধ্যাপক।
এর আগে মঙ্গলবার (৯ অক্টোবর) রাত ৯টার দিকে শেরপুর উপজেলার বাঙালি নদীর আওলাকান্দি ঘাট এলাকায় নৌকায় বসে জুয়া খেলার সময় পুলিশের ভয়ে নদীতে ঝাঁপ দিয়ে নিখোঁজ হন তিনি।
জানা গেছে, নিহত আব্দুল হাই বিভিন্ন এলাকার ৮-১০ জনের সঙ্গে বাঙালি নদীর আওলাকান্দি ঘাট এলাকার নৌকার ওপর জুয়া খেলার আসর বসান। সেখানে অভিযান চালায় পুলিশ। এ সময় পুলিশের ভয়ে আব্দুল হাই নদীতে ঝাঁপ দিয়ে নিখোঁজ হন। তবে জুয়ার আসর থেকে প্যানেল মেয়রসহ চারজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ সময় একটি নৌকা, নগদ ৩৩ হাজার ৪৬০ টাকা ও তাসসহ জুয়া খেলার সরঞ্জামাদি জব্দ করা হয়।
গ্রেফতাররা হলেন- সিরাজগঞ্জের কাজীপুর পৌরসভার প্যানেল মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বিয়ারা গ্রামের তাছির উদ্দিন তাছু (৫০), ধুনট উপজেলার চান্দিয়ার গ্রামের আজিজ শেখের ছেলে আল হেলাল (৩৮), শেরপুর শহরের দত্তপাড়ার অনিন্দ্রনাথ তাম্বুলীর ছেলে মানিক তাম্বুলী (৩৬) ও শেরপুর উপজেলার আওলাকান্দি গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে রফিকুল ইসলাম (৪০)।
শেরপুর ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের কর্মকর্তা রতন হোসেন জানান, বাঙালি নদীতে পড়ে নিখোঁজ হওয়ার এক কিলোমিটার ভাটি থেকে আব্দুল হাই- এর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
বগুড়ার শেরপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, গ্রেফতারদের জুয়া আইনে মামলা দিয়ে বুধবার দুপুরে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এছাড়াও নদীতে নিখোঁজ আব্দুল হাই এর ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
আরএআর/এমএস