দেশজুড়ে

বিয়ের আড়াই মাসেই হাসপাতালে ঠাঁই হলো গৃহবধূর

বিয়ের মাত্র আড়াই মাস পার হয়েছে। এরই মধ্যে ও শ্বাশুড়ির নির্যাতনের শিকার হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছে বিলকিস খাতুনকে (২০)। চাহিদা মোতাবেক যৌতুক না দিতে পারায় তার উপর এমন অমানবিক নির্যাতন নেমে এসেছে।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) রাতে পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার নন্দনপুর ইউনিয়নের হাটবাড়িয়া বোয়ালমারী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

স্বামী রবিউল ইসলাম (২৪) সাঁথিয়া উপজেলার হাটবাড়িয়া গ্রামের জালাল মিয়ার ছেলে আর বিলকিস ক্ষেতুপাড়া ইউনিয়নের বিষ্ণুপুর গ্রামের মৃত দুদু মিয়ার মেয়ে। তাদের গত ২২ জুলাই পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়।

রবিউল ইসলাম পরকীয়ায় আসক্ত বলে তার স্ত্রী অভিযোগ করেছেন। পরকীয়া ঢাকতেও তার উপর নানা অজুহাতে নির্যাতন চালানো হয় বলে তার অভিযোগ।

বুধবার (৭ অক্টোবর) বিকেলে হাসপাতালের বেডে শুয়ে বিলকিস খাতুন জানান, তার বাড়ির লোকজন খবর পেয়ে বুধবার তাকে সাঁথিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেছেন। বিলকিস খাতুনের কাছ থেকে জানা যায়, এইচএসসি পাস করার পর তাকে পরিবারের লোকজন বিয়ে দেন। বিয়ের সময় রবিউলকে দুই লাখ টাকা যৌতুক দেয়া হয়।

তিনি জানান, বাসর রাতেই তিনি বুঝতে পারেন স্বামী পরকীয়ায় আসক্ত। এজন্য বিয়ের কয়েকদির পর থেকেই নানা অজুহাতে তার ওপর শুরু হয় নির্যাতন। বাবার বাড়ি থেকে আরও যৌতুক এনে দেয়ার জন্য শাশুড়ি নির্যাতন চালাতে থাকেন। ছেলের দোষ ঢাকতে তার ওপর শাশুড়ির নির্যাতনের মাত্রা ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে। সবশেষ মঙ্গলবার রাতে স্বামী ও শাশুড়ি মিলে তাকে কাঠ ও বাঁশের লাঠি দিয়ে বেধড়ক পিটিয়ে গুরুতর জখম করেন।

রবিউলের গ্রামেরই বাসিন্দা ও তার ভায়রা ইমারত আলী জানান, বিয়ের পর থেকেই শ্বশুরবাড়ির লোকজন বিলকিসের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে আসছে।

সাঁথিয়া হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, বিলকিসের মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তাকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

আহত বিলকিসের স্বজনরা জানান, তারা বিলকিসের চিকিৎসা নিয়েই এখন ব্যস্ত। এরপর আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার কথা ভাববেন।

সাঁথিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুজ্জামান বুধবার রাতে জানান, এ ব্যাপারে কেউ কোনো অভিযোগ এখন পর্যন্ত করেননি। অভিযোগ পেলে অবশ্যই প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এফএ/এমকেএইচ