দেশজুড়ে

তিস্তায় ২৩০ কিলোমিটার জুড়ে এ মানববন্ধন

লালমনিরহাটে তিস্তা শাসন এবং খনন করে তিস্তা পাড়ের কয়েক লাখ মানুষের জীবন-জীবিকা নিশ্চিত করার দাবিতে ১৪৫টি স্থানে ২৩০ কিলোমিটার জুড়ে মানববন্ধন করেছে এলাকার মানুষ।

রোববার (১ নভেম্বর) ১২টায় তিস্তার দুই পারে শুরু হওয়া মানববন্ধন চলে দুপুর ১টা পর্যন্ত। মানববন্ধনে অংশ নেয়া তিস্তার পারের মানুষের হাতে ছিল বাংলাদেশের পতাকা। বুকে তিস্তা বাঁচাতে নানা ধরনের স্লোগান প্লেকার্ড।

সবাই তিস্তার ভাঙন ও বন্যায় ক্ষতবিক্ষত। দাবি একটাই, তিস্তার শাসন করে ভাঙন ও বন্যা প্রতিরোধের ব্যবস্থা করা।

তিস্তা বাঁচাও, নদী বাঁচাও সংগ্রাম কমিটির আয়োজনে তিস্তা নদীর প্রবেশ মুখ নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার পশ্চিম ছাতনাই জিরো পয়েন্ট থেকে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের হরিপুর ঘাট পর্যন্ত ১৪৫টি পয়েন্টে হয় এ মানববন্ধন।

আয়োজকদের দাবি, মরতে বসা তিস্তার প্রকৃত চিত্র দেশ এবং বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরে তিস্তা চুক্তির মাধ্যমে পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়সহ সরকার গৃহীত মহাপরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়ন করা।

নাব্যতায় মরতে বসেছে তিস্তা। বন্যার ক্ষত মুছতে না মুছতেই তিস্তা পরিণত হয়েছে ধু ধু বালুচরে। ১ নভেম্বরেই ব্যারেজ পয়েন্টে পানি রেকর্ড পরিমাণ কমেছে। এ অবস্থায় প্রতি বছরই কমছে কৃষকের আবাদি জমি। ফলে অনিশ্চিতায় পড়েছে এ অঞ্চলের লাখো মানুষ। তাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তিস্তা বাচাঁতে যে মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে তা দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে লালমনিরহাটের হাজার হাজার মানুষ জেলার দহগ্রাম থেকে সদরের গোকুন্ড পর্যন্ত এলাকাজুড়ে নদীপাড়ে মানববন্ধনে অংশ নেয়।

বক্তারা বলেন, তিস্তা রক্ষায় যে সাড়ে ৮ হাজার কোটি টাকার মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে তা দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। যতক্ষণ পর্যন্ত তিস্তা রক্ষা হবে না ততক্ষণ পর্যন্ত তাদের এ আন্দোলন চলতে থাকবে।

এদিকে নদী বিশেষঞ্জ ড. তুহিন ওয়াদুদ মনে করেন, মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের পাশাপাশি অভিন্ন পানি চুক্তি, নদী খনন অবিলম্বে করতে হবে। অন্যথায় তিস্তাকে রক্ষা করা যাবে না।

মানববন্ধনে তিস্তা বাচাঁও নদী বাচাঁও সংগ্রাম পরিষদের নেতৃবৃন্দ, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, আইনজীবী, সাংবাদিকসহ সর্বস্তরের মানুষ অংশগ্রহণ করেন।

রবিউল/এমএএস/পিআর