পিরোজপুরের নাজিরপুরে আটক করেও ক্ষমতাসীনদের চাপে নকল সরবরাহকারী স্কুল শিক্ষককে ছেড়ে দিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। আর একই সঙ্গে নকল সরবারহকারী ৩ কলেজ ছাত্রকেও ছেড়ে দেয়া হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. তবিবুর রহমান ক্ষমতাসীনদের চাপের কথা অস্বীকার করে জানান, আটক ১ জন স্কুলশিক্ষক ও অন্যরা ছাত্র হওয়ায় তাদের মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক প্রত্যক্ষদর্শী স্কুলশিক্ষক জানান, উপজেলা সদরের শহীদ জিয়া ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রের টিনসেট ভবনে অনুষ্ঠিত শ্রীরামকাঠী ইউজেকে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পরীক্ষার্থীদের শিক্ষক ও ছাত্ররা মিলে নকল সরবরাহ করতে গেলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এক শিক্ষকসহ মনির শেখ (২০), রাসেল মৃধা (১৮) ও জুয়েল হাওলাদার (২২) নামের ৩ কলেজ ছাত্রকে আটক করে পুলিশের নিকট সোর্পদ করেন। পরবর্তীতে তাদের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. তবিবুর রহমান কর্তৃক পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতে উপস্থিত করা হয়। সেখানে উপজেলা আ.লীগের সভাপতি এমএ মালেক বেপারী, সাধারণ সম্পাদক মো. মোশারফ হোসেন খান, সাংগঠনিক সম্পাদক মাস্টার মনিরুজ্জামান আতিয়ার ও উপজেলা যুবলীগের সভাপতি এম খোকন কাজী উপস্থিত ছিলেন। ওই আদালতে উপস্থিত একজন প্রত্যক্ষদর্শী অভিযোগ করে বলেন, ক্ষমতাসীন দলের নেতদের চাপেই নকল সরবরাহের সময় ইউএনও সাহেব নিজেই হাতে-নাতে আটক করেও তাদের ছেড়ে দিলেন। আটক ওই স্কুলশিক্ষক উপজেলার শ্রীরামকাঠী ইউজেকে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বিএসসি (গণিত) শিক্ষক বলে ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রমেন্দ্র নাথ মন্ডল নিশ্চিত করেছেন। থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. নাছির মল্লিক জানান, ওই শিক্ষকসহ ৩ জনকে আটক করে থানা হাজতে রাখা হলেও পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আটকদের মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেন। এ বিষয়ে ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রমেন্দ্র নাথ মন্ডল জানান, ওই শিক্ষক ( পলাশ মন্ডল) বাবার অসুস্থতার কথা বলে রোববার ছুটি নিলেও তিনি এমন কাজ করায় বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষকদের নিয়ে বিকালে জরুরি বৈঠকে বসা হয়েছে। সোমবার বিকাল ৩ টায় ম্যনেজিং কমিটির বৈঠকে সিদ্ধান্ত নিয়ে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। হাসান মামুন/এসএস/পিআর