সিভিল সার্জনের সহায়তায় সুনামগঞ্জ জেলা শহরের ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেছে জেলা প্রশাসন। এ সময় এক সরকারি মেডিকেল অফিসারকে দেখা গেছে সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা না দিয়ে মেয়াদোত্তীর্ণ বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে চিকিৎসা দিতে।
বুধবার (১১নভেম্বর) দুপুরে পরিচালিত এ অভিযানে শহরের ২টি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের লাইসেন্স-এর মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলো হলো শহরের নতুন কোর্ট পয়েন্টের সেবা ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও উকিল পাড়ার মুক্তি ডায়াগনস্টিক সেন্টার। লাইসেন্স নবায়ন না করা পর্যন্ত এই দুটি প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
মুক্তি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অভিযান চালাতে গিয়ে রীতিমতো অবাক হয়েছেন সিভিল সার্জন। কারণ, সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে দায়িত্ব পালন না করে মেয়াদোত্তীর্ণ বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে রোগী দেখছিলেন মেডিকেল অফিসার ডা. বদিউল আলম ভূঞা।
সরকারি দায়িত্ব পালন না করে কেন প্রাইভেট রোগী দেখছেন সিভিল সার্জনের এমন প্রশ্নের জবাবে ডা. বদিউল আলম ভূঞা বলেন, ‘রাতে ডিউটি করেছি। তাই আজ হাসপাতালে যাইনি।’
এ সময় এই চিকিৎসককে তাৎক্ষণিকভাবে ডায়াগনস্টিক সেন্টার ত্যাগ করতে বলেন সিভিল সার্জন। তবে তাকে কোনো জরিমানা বা সাজা দেয়া হয়নি।
এ বিষয়ে সিভিল সার্জন ডা. মো. শামস উদ্দিন জাগো নিউজকে বলেন, ‘সারাদেশে ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার অংশ হিসেবে আমরা সুনামগঞ্জে এই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করছি। আমরা সবাইকে অনেক আগেই বলেছি লাইসেন্স করার জন্য। কিন্তু তারা শোনেনি। তাই জরিমানা করা হচ্ছে। তবে আমি নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছিনা যে সময়ে মেডিকেল অফিসারের হাসপাতালে রোগী দেখার কথা, সেই সময় তিনি মেয়াদোত্তীর্ণ বেসরকারি হাসপাতালে বসে রোগী দেখছেন, আমরা তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেব।’
জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জহিরুল আলম বলেন, ‘ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে কিছু অসঙ্গতি দেখা গেছে। তাই দেশব্যাপী অভিযানের অংশ হিসেবে সুনামগঞ্জে আমরা অভিযান চালাচ্ছি। যেসব প্রতিষ্ঠানে অসঙ্গতি দেখছি তাদেরকে আইনের আওতায় নিয়ে আসছি।’
অভিযানে আরও উপস্থিত ছিলেন সিভিল সার্জন অফিসের মেডিকেল অফিসার ডা. সজীব কবির ভুইয়া, মেডিকেল টেকনিক্যাল ল্যাবের অফিসার রুকুনউদ্দিন মোল্লা প্রমুখ।
এসএস/পিআর