আর্থিক সহযোগিতাসহ হারিয়ে যাওয়া বাক প্রতিবন্ধী এক কিশোরকে বাবা-মায়ের কাছে ফিরিয়ে দিয়েছে পুলিশ। শনিবার (১৪ নভেম্বর) দুপুর ২টার দিকে পাবনা পুলিশ সুপারের কনফারেন্স রুমে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তার স্বজনদের কাছে তুলে দেয়া হয়।
বাক প্রতিবন্ধী কাবির আলী (১৪) চাপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার মরদানা গ্রামের নুরুল হুদার ছেলে। হস্তান্তরের সময় পুলিশ সুপার রফিকুল ইসলাম ছেলেটির জন্য বাবা-মায়ের হাতে নগদ ১০ হাজার টাকা ও পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাসিম আহমেদ ৫ হাজার টাকা প্রদান করেন।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার রফিকুল ইসলাম ছেলেটির স্বজনদের বরাত দিয়ে বলেন, গত ১৫ অক্টোবর বাক প্রতিবন্ধী কাবির আলী হারিয়ে যায়। তার পরিবারের সদস্যরা অনেক খোঁজাখুজির পর না পেয়ে ১৮ অক্টোবর শিবগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন (নং- ৮৫৪)। তারপরও নিজ উদ্যোগে নানা এলাকায় খোঁজাখুজি করেও ছেলের সন্ধান পাননি।
এ দিকে মঙ্গলবার (১০ নভেম্বর) শহরের জনৈক ব্যক্তি ছেলেটিকে রাস্তায় পেয়ে নিরাপত্তার কথা ভেবে পাবনা সদর থানায় রেখে যান। শ্যামলা রঙের ছেলেটি আকার ইঙ্গিত ছাড়া কোনো কথা বলতে ও শুনতে পারছিল না। এতে ওসি পড়েন বিপাকে। তিনি কিশোরটিকে নিজ বাসায় আদর যত্ন করে রাখেন। তিনি তার মোবাইল নম্বর ও কিশোরটির ছবি দিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেন।
পরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছবি দেখে পাবনার সুজানগর উপজেলায় প্রাইভেট কোম্পানিতে কর্মরত এক ব্যক্তি কিশোরটি তার এলাকার (শিবগঞ্জ উপজেলার) বলে শনাক্ত করেন। তারপর তার পরিবারের লোকজনের সাথে যোগাযোগ করলে তারাও ছবি দেখে ও ভিডিওতে কাবিরকে দেখে নিশ্চিত হন। তারা পুলিশ কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করে পাবনায় আসেন। এ সময় পুলিশ সুপার ছেলেটিকে তার বাসায় রেখে যত্ন করায় সদর থানার ওসি নাসিম আহমেদ ধন্যবাদ জানান।
এ সময় পুলিশ সুপার বলেন, কিশোরটি অনেক বুদ্ধিমান। তাকে টেকনিক্যাল বিষয়ে পড়ানোর ব্যাপারে পরিবারের সদস্যদের পরামর্শ দেয়া হয়েছে। পাবনা জেলা পুলিশ থেকে তাকে সব ধরনের আর্থিক সহযোগিতারও আশ্বাস দেন তিনি।
হারানো ছেলেকে কাছে পেয়ে বাবা নুরুল হুদা বলেন, পুলিশ জনগণের বন্ধু সেটি পাবনা সদর থানার ওসি ও পুলিশ সুপার প্রমাণ করে দিলেন। তিনি তাদের সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
এ সময় অন্যান্যের মধ্যে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইবনে মিজান, সহকারী পুলিশ সুপার শরিফুল ইসলাম, সদর থানার ওসি নাসিম আহমেদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
আমিন ইসলাম/এআরএ/এমকেএইচ