পরিযায়ী পাখির অভয়াশ্রম হিসেবে দেশ-বিদেশে পরিচিত ছিল সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওর। প্রতি বছর শীতে সুদূর সাইবেরিয়াসহ বিভিন্ন দেশ থেকে হাজার হাজার মাইল পাড়ি দিয়ে ঝাঁকে ঝাঁকে হাওরটিতে পরিযায়ী পাখি আসতো। এবার জলাভূমিতে শীত এসেছে, কিন্তু পাখির দেখা নেই। পাখি না থাকায় প্রায় পর্যটকশূন্য হয়ে পড়েছে টাঙ্গুয়ার হাওর।
২০০০ সালে ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্য হিসেবে ঘোষণা করে এই হাওরকে। প্রতি বছর শীতে সাইবেরিয়াসহ বিভিন্ন দেশ থেকে হাজার হাজার মাইল পাড়ি দিয়ে এখানে ঝাঁকে ঝাঁকে অতিথি পাখি আসে। পানকৌড়ি, ভূতিহাঁস, পিয়ং হাঁস, খয়রাবগা, লেঞ্জা হাঁস, সরালিসহ নানা প্রজাতির পাখির কলকাকলিতে মুখরিত হয় হাওরটি। কিন্তু এবারের চিত্র অনেকটাই ভিন্ন।
রোববার (১৫ নভেস্বর) টাঙ্গুয়ার হাওরে গিয়ে দেখা যায়, হাওরের জলাভূমিতে শীত এসেছে, কিন্তু পাখির দেখা নেই। সংরক্ষিত হওয়ার পরও স্থানীয় পাখি শিকারিদের উৎপাত ও রাতে বিভিন্ন রকমের ফাঁদ তৈরি করে পাখি শিকার করায় প্রায় পাখিশূন্য হাওরটি।
ঢাকা থেকে টাঙ্গুয়ার হাওর দেখতে আসা পর্যটক মনিরুজ্জামান জাগো নিউজকে জানান, গত কয়েক বছর আগে টাঙ্গুয়ার হাওরে যে পরিমাণ পরিযায়ী পাখি দেখা গেছে বর্তমানে তা আর দেখা যাচ্ছে না। তিনি বলেন, পাখি না থাকলে হাওরের সৌন্দর্য থাকবে না।
ঢাকা থেকে টাঙ্গুয়ার হাওর দেখতে এসেছেন হৃদয় আহমেদ। তিনি জাগো নিউজকে জানান, প্রতি বছর শীত আসলে আমরা বন্ধুরা মিলে টাঙ্গুয়ার হাওর ঘুরতে আসি। তবে শীতে এই হাওরে যে পরিমাণে পরিযায়ী পাখি থাকার কথা, এবার সেই পরিমাণ পাখি নেই।
স্থানীয় বাসিন্দা সিরাজ মিয়া জানালেন, রাত হলেই পাখি শিকারিরা পরিযায়ী পাখি ধরার জন্য বিভিন্ন ধরনের জাল ফেলে রাখেন এবং তারা বিভিন্ন প্রজাতির পাখি শিকার করে বিক্রি করেন। এই পাখি শিকারিদের কারণে হাওরে পাখি কমে গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা সুরুজ মিয়া জাগো নিউজকে জানান, এ বছর পাখি আসা কমে যাওয়ায় প্রায় পর্যটকশূন্য হয়ে পড়েছে টাঙ্গুয়ার হাওর। হাওরের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় স্থানীয় প্রশাসনকে তৎপরতা বাড়ানো দরকার বলে মনে করেন তিনি।
‘আগে শীত আসার সঙ্গে সঙ্গে বিদেশ থেকে টাঙ্গুয়ার হাওরে নানা প্রজাতির পাখি দেখা যেত। পাখির শব্দে আমাদের ঘুম ভেঙে যেত। এখন আর আগের মতো পাখি আসে না। কারণ কিছু মানুষ পাখি শিকার করে পাখির অভয়াশ্রম ধ্বংস করে দিচ্ছে। আমরা প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানাই, যাতে দ্রুত এইসব পাখি শিকারিদের আইনের আওতায় আনা হয়’-বলেন স্থানীয় বাসিন্দা ফরিদ মিয়া।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ জানান, ‘হাওরের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। কিছু অসাধু প্রকৃতির লোকজন পাখি শিকার করার জন্য গভীর রাতে হাওরে প্রবেশ করে। তবে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এই কার্যক্রমের ফলে পাখি শিকার অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।’
লিপসন আহমেদ/এসআর/জেআইএম