দেশজুড়ে

বাঁচতে চান অজানা রোগে আক্রান্ত শাকিল

পোশাক তৈরিতে দক্ষ হয়ে উঠেছিলেন। স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছিলেন নিজের পায়ে দাঁড়ানোর। দিনমজুর বাবা-মাও স্বপ্ন দেখা শুরু করেছিলেন তাদের ছেলেকে নিয়ে; কিন্তু স্বপ্নটা স্বপ্নই থেকে যাচ্ছে মো. শাকিলের। অজানা রোগে আক্রান্ত হয়ে এখন তিনি মৃত্যুপথযাত্রী। সময়মতো সঠিক চিকিৎসা না পেলে হয়তো দিনমজুর বাবা-মাকে সারাজীবনের দুঃখ বয়ে নিয়েই দুনিয়ার মায়া ত্যাগ করতে হবে।

মো. শাকিল লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার চররুহিত ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের চররুহিতা গ্রামের বাসিন্দা। দিনমজুর বাবা-মা’র সংসারে থেকে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন দেখাটা যেন পাপ। সবকিছু বুঝে ওঠার আগেই শাকিল বুঝতে শিখেছিল, সংসারে সচ্ছলতা আনতে হলে তাকেও হাল ধরতে হবে। শাকিলের আর স্কুলের গণ্ডি পার হওয়া হয়নি। লেগে যান কাজে।

ঢাকা এসে একজন পোশাক কারিগরের (দর্জি) সঙ্গে থেকে কাজ শিখতে থাকেন। এক সময় নিজেও দক্ষ হয়ে ওঠেন পোশাক তৈরিতে। কিন্তু যখনই অর্জিত দক্ষতা কাজে লাগিয়ে নিজেই পোশাক তৈরি করবেন, দীর্ঘ লালিত স্বপ্নটাকে বাস্তবায়ন করবেন, ঠিক সে সময় অজানা রোগ বাসা বাঁধে শাকিলের শরীরে। ধীরে ধীরে কর্মক্ষমতা হারিয়ে তিনি এখন পুরোপুরি শয্যাশায়ী। সে থেকে পার হয়ে গেছে তিনটি বছর। দিনমজুর বাবা হোসেন আহম্মদও বয়সের ভারে ন্যুজ হয়ে পড়েছেন। ঠিকমতো কাজ করতে পারেন না। কর্মঠ ছেলেটিকে বিছানায় শুয়ে থাকতে দেখে কান্নায় চোখ ভেঙে আসে, অঝোর ধারায় পানি ঝরে। কিন্তু কিছুই করার সাধ্য নেই তার। শাকিলও চান সুস্থ হয়ে পরিবারের হাল ধরতে।

লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের চিকিৎসকদের পরামর্শে শাকিলকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়; কিন্তু টাকার অভাবে সেখানকার চিকিৎসকদের দেওয়া পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসার খরচ চালতে পারেননি তার বাবা মা।

শাকিলের পরিবার সূত্র জানায়, প্রায় তিন বছর আগে ঢাকায় হঠাৎ সে অচেতন হয়ে পড়ে। প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাকে ঢাকা থেকে বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। কিছুদিন পরই তার দুই কোমরে ও পিঠে মেরুদণ্ডের হাড়ের ওপর ফোঁড়া ওঠে। পরে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

কয়েকদিন ভালো থাকলেও পরে এটি আবার বেড়ে যায়। এরপর তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা শাকিলের অপারেশন করাতে পরামর্শ দেয়। কিন্তু টাকার অভাবে অপারেশন না করিয়ে তাকে লক্ষ্মীপুর নিয়ে আসা হয়। এ পর্যন্ত প্রায় লক্ষাধিক টাকা খরচ করেও ছেলেটিকে সুস্থ করা সম্ভব হয়নি। তার উন্নত চিকিৎসার জন্য সমাজের বিত্তবানদের সহযোগিতা চেয়েছেন শাকিলের দিনমজুর বাবা ও তার মা। চিকিৎসায় সহযোগিতার জন্য যোগাযোগ ও বিকাশ নম্বর- ০১৭২৩৯৫০৯৩৪ (শাকিলের মা হোসনেয়ারা বেগম)।

জানতে চাইলে শাকিলের মা হোসনেয়ারা বেগম বলেন, ‘আমার ছেলে কর্মঠ ছিল। হঠাৎ করে অসুস্থ হয়ে পড়ে সে এখন শয্যাশায়ী। তাকে দেখে আমার খুব কষ্ট হয়। আমার ছেলেকে সুস্থ করে তুলতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সকলের সহযোগিতা চাই।’

কাজল কায়েস/আইএইচএস/এমকেএইচ