দেশজুড়ে

লালপুরে নৌকা চান হাফ ডজন নেতা

নাটোরের লালপুর উপজেলার গোপালপুর পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা ফর্ম উত্তোলন ও জমাদানের জন্য এখন রাজধানী ঢাকায় অবস্থান করছেন। এই পৌরসভায় বিগত দিনে বিএনপির মেয়ররা নির্বাচিত হলেও এবার পৌর পরিষদের নেতৃত্বে আসতে চান আওয়ামী লীগের হাফ ডজন নেতা।

তবে মনোনয়ন দৌড়ে শীর্ষে আছেন তিনজন। চূড়ান্ত মনোনয়ন যিনিই পাবেন তাকে বিজয়ী করার অঙ্গীকার করেছেন সকলে। তবে চূড়ান্ত প্রার্থী মনোনয়নে অধিকতর সতর্কতার আহ্বান জানিয়েছেন দলীয় নেতাকর্মীরা। তা নাহলে বিগত নির্বাচনগুলোর মতো ভরাডুবির শঙ্কা তাদের।

গোপালপুর পৌরসভায় আগামী ১৬ জানুয়ারি দ্বিতীয় দফা পৌর নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ইতোমধ্যে গোপালপুর পৌরসভার মেয়র পদের জন্য মনোনয়ন ফর্ম সংগ্রহ করেছেন লালপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি বদিউর রহমান বদর, সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল ইসলাম, জেলা তাঁতী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ইকবাল হোসেন রিপন, পৌর আওয়ামী লীগ সভাপতি রোকসানা মোর্তুজা লিলি প্রমুখ। এছাড়া মনোনয়ন ফর্ম উত্তোলন ও জমাদানের শেষ দিন পর্যন্ত ফর্ম সংগ্রহ করবেন আরও বেশ কয়েকজন নেতা।

স্থানীয়রা জানান, চূড়ান্ত মনোনয়ন পাওয়ার দৌড়ে এগিয়ে আছেন পৌর আওয়ামী লীগ সভাপতি রোকসানা মোর্তুজা লিলি, জেলা তাঁতী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ইকবাল হোসেন রিপন ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল ইসলাম।

তিন প্রার্থীর মধ্যে তুলনামূলক এগিয়ে রয়েছেন জেলা তাঁতীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ইকবাল হোসেন রিপন। পেশায় শিক্ষক রাকসুর এই সাবেক ছাত্রলীগ নেতা বেশ জনপ্রিয় পৌরবাসির কাছে। তিনি বিগত দিনে বিএনপি-জামাতের সহিংসতা ও অগ্নিসন্ত্রাসের বিরুদ্ধে আন্দোলনে সামনের সারিতে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।

স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা এবারের পৌর নির্বাচনকে দেখছেন চ্যালেঞ্জ হিসেবে। তারা মনে করেন বিগত নির্বাচনগুলোতে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মনোনয়নে দলীয় নেতাকর্মী ও ভোটারদের ইচ্ছার প্রতিফলন হয়নি। ফলে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা শুধু পরাজিতই নয়, তাদের জামানতও বাজেয়াপ্ত হয়েছে।

পৌরসভার ভোটাররা মনে করেন, ভারী শিল্প-অধ্যুষিত এলাকায় আগামী দিনে দেশী-বিদেশী বিনিয়োগ সম্ভাবনা কাজে লাগাতে প্রয়োজনীয় পরিবেশসম্পন্ন পৌরসভা গড়ে তোলাই খুবই প্রয়োজন। এছাড়া পৌর এলাকায় রাস্তাঘাট নির্মাণ, জলাবদ্ধতা নিরসনে ড্রেন নির্মাণ, যানজট সমস্যা নিরসনে বাস-ট্রাকের পৃথক যানবাহন ষ্ট্যান্ড, পর্যাপ্ত সড়ক বাতি স্থাপন, পর্যাপ্ত সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, ওয়াইফাই সংযোগ স্থাপন, শিশুকিশোর ও বৃদ্ধদের জন্য পার্ক ও বিনোদন কেন্দ্র, সন্ত্রাস ও মাদক সমস্যা নিরসনে জনসচেতনতা তৈরিসহ বিভিন্ন কর্মকান্ডে বাস্তবায়ন চান তারা।

মনোনয়ন প্রত্যাশী ইকবাল হোসেন রিপন বলেন, বিগত বছরগুলোতে এই পৌরসভার বিএনপি সমর্থিত মেয়ররা নাগরিকদের জন্য উল্লেখযোগ্য কিছুই করতে পারেননি। আমাকে মনোনয়ন দিলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে চলমান মাদক, সন্ত্রাস, জঙ্গী ও দুর্নীতিবিরোধী চলমান প্রক্রিয়াতে গতিশীলতা আনার পাশাপাশি নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করে আধুনিক পৌরসভা গড়ে তুলতে চেষ্টা করবো।

অপর মেয়র প্রার্থী রোখসানা মর্তুজা লিলি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আমি ও আমার পরিবার দলের জন্য কাজ করে চলেছি। দলীয় মনোনয়ন পেলে জয় পাবো আশা করছি।

মেয়র প্রার্থী সাইফুল ইসলাম বলেন, পৌরবাসীর সেবায় আমি নিজেকে উৎসর্গ করতে চাই যদি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাকে সুযোগ দেন।

এদিকে এই পৌরসভায় এখনও দলের প্রার্থী ঘোষণা করেনি বিএনপি। তবে দলীয় সমর্থকরা মনে করছেন প্রার্থী হবেন বর্তমান মেয়র নজরুল ইসলাম মোলাম এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে নেমেছেন সাবেক মেয়র মুঞ্জুরুল ইসলাম বিমল।

রেজাউল করিম রেজা/এসএমএম/এমএস