দেশজুড়ে

বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ

শরীয়তপুরে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এক স্কুল ছাত্রীকে (১৫) ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। গত ৬ ডিসেম্বর ভুক্তভোগী ছাত্রীর মা ধর্ষণের অভিযোগে গোসাইরহাট থানায় মামলা করেন।

মামলার ২৬ দিন অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত মামলার আসামি জাহিদুল আটক হয়নি। বর্তমানে মামলা তুলতে হুমকি দিচ্ছে জাহিদুলের পরিবার।

ওই ছাত্রীর বাড়ি শরীয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলার কুচাইপট্রি ইউনিয়নে। সে স্থানীয় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী।

থানায় অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আসামি কুচাইপট্রি ইউনিয়নের মশুরগাঁও এলাকার সেলিম ব্যাপারীর ছেলে জাহিদুল ব্যাপারী (২২) স্কুলে আসা-যাওয়ার পথে প্রায়ই ওই ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করতেন। একপর্যায়ে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। পরে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন স্থানে নিয়ে জাহিদুল ওই স্কুল ছাত্রীকে একাধিকবার ধর্ষণ করেন।

শেষবারের মতো গত ৪ ডিসেম্বর রাত ১১টার দিকে আসামি জাহিদুল তার বাড়িতে নিয়ে টিনসেড বসতঘরে নিয়ে ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। ওই ছাত্রী অসুস্থ হয়ে পরলে ওলিল মৃধা, সুমন মৃধা, মানসুরা বেগমসহ স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে। পরে ছাত্রীকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়। ধর্ষণের ফলে ওই ছাত্রী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। জাহিদুল জন্মনিয়ন্ত্রণ ট্যাবলেট খাইয়ে ছাত্রীর পেটের বাচ্চা নষ্ট করে বলে অভিযোগ উঠেছে। ওই ছাত্রী জাহিদকে বিয়ের জন্য তাগিদ দিতে থাকেন। বিয়ে করবে না জানার পর গত ৬ ডিসেম্বর ছাত্রীর মা গোসাইরহাট থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযোগের পর ৭ ডিসেম্বর স্থানীয় হাসান ঘরামী, কালাম ব্যাপারী, সেলিম ব্যাপারী, আলি হোসেন মোল্লা, অলিল মৃধা, শাহ আলম মৃধা, ফিরোজ মৃধা, নারগিস বেগমসহ ২০/২৫ জন জাহিদুলের কাকি নারগিস বেগমের বাড়িতে দরবার সালিশ করেন। সালিশে দেড় লাখ টাকায় বিষয়টি মীমাংসা হয়। টাকা দিলে ছাত্রীর পরিবারের মামলা তুলে নেয়ার কথা। কিন্তু ছাত্রীর পরিবারকে টাকা দেয়নি জাহিদুলের পরিবার।

সালিশে থাকা নারগিস বেগম বলেন, ঘটনাটি নিয়ে আমার বাড়িতে দুটি পক্ষ দরবার সালিশ করে। পরে মেয়ের পক্ষ ৩ লাখ টাকা দাবি করে। প্রথমে এক লাখ টাকা দিতে রাজি হয় ছেলের পরিবার। পরে দেড় লাখ টাকায় মীমাংসা হয়। কিন্তু ছেলের পরিবার মেয়ের পরিবারকে টাকা দেয়নি।

স্থানীয় হাসান ঘরামী, কালাম মৃধাসহ অনেকেই বলেন, এ ধরনের ঘটনায় যে জড়িত তাকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়া হোক। শাস্তি হলে এরকম ঘটনা ঘটাতে কেউ সাহস পাবে না।

ওই ছাত্রী বলেন, স্কুলে আসা-যাওয়ার পথে জাহিদুল দেখা করতো আমার সঙ্গে। পরে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। এক বছর যাবত সম্পর্ক আমার সঙ্গে। বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন স্থানে নিয়ে জাহিদুল আমার সঙ্গে খারাপ কাজ করে। আমার পেটে বাচ্চা এলে ওষুধ খাইয়ে বাচ্চা নষ্ট করে দেয় জাহিদুল। আমি এর বিচার চাই।

ছাত্রীর বাবা বলেন, আমার মেয়ের সঙ্গে জাহিদুলের সম্পর্ক আমরা জানতাম না। আমার মেয়েকে ঘর থেকে বের করে নিয়ে খারাপ কাজ করেছে জাহিদুল। তাই আমি মামলা করেছি।

অভিযুক্ত জাহিদুল ব্যাপারীর মা দিপা বেগম বলেন, গত ৪ ডিসেম্বর রাতে আমার ছেলে বাড়িতে ছিল না। মেয়ের পরিবার আমাদের বাড়িতে এসে মেয়েকে ঘরে ঢুকিয়ে তালা মারে। পরে স্থানীয়রা দরবার সালিশ করে।

গোসাইরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোল্লা সোহেব আলী বলেন, এই ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে। মামলার আসামি জাহিদুল পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। আসামিকে গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত আছে।

মো. ছগির হোসেন/এআরএ