আইন-আদালত

ফরিদপুরের দুই ভাইয়ের জামিন নিয়ে হাইকোর্টের রুল

অর্থপাচারের অভিযোগে করা মামলায় দুই ভাই ফরিদপুর শহর আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন ওরফে বরকত এবং ফরিদপুর প্রেস ক্লাবের বহিষ্কৃত সভাপতি ইমতিয়াজ হাসান রুবেলকে কেন জামিন দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে সংশ্লিষ্টদের এই রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

আসামিদের জামিন আবেদনের শুনানি নিয়ে সোমবার (৪ জানুয়ারি) হাইকোর্টের বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি আহমেদ সোহেলের সমন্বয়ে গঠিত ভার্চুয়াল বেঞ্চ এই রুল জারি করেন।

আদালতে আজ দুদকের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খান। আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী কামরুল আলম কামাল। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন মানিক।

এর আগে ২০২০ সালের ২৬ জুন সিআইডি পরিদর্শক এস এম মিরাজ আল মাহমুদ ওই দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে অর্থপাচারের অভিযোগে রাজধানীর কাফরুল থানায় মামলা দায়েন করেন। অর্থপাচারের ওই মামলায় দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে প্রায় দুই হাজার কোটি টাকার সম্পদ অবৈধ উপায়ে উপার্জন ও পাচারের অভিযোগ আনা হয়।

ফরিদপুর শহরের গোলচামত এলাকায় জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সুবল চন্দ্র সাহার বাড়িতে হামলার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে শহরের বিভিন্ন স্থান থেকে সাজ্জাদ, রুবেলসহ ৯ জনকে গত ৭ জুন গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে তাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনসহ বিভিন্ন আইনে মামলা হয়। তাঁরা দুই ভাই সংসদ সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেনের অনুসারী।

গত ১৯ জুলাই ভোরে সিআইডি দুই ভাইকে ফরিদপুর জেলখানা থেকে তাদের জিম্মায় নেন। এরপর তাদের ঢাকার সিআইডি কার্যালয়ে নেওয়া হয়। দুই দিন রিমান্ড শেষে সিআইডি ২১ জুলাই আবার তাদের ১০ দিন করে রিমান্ড চাইলে আদালত তিন দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন। ২৪ জুলাই মোট পাঁচ দিন রিমান্ড শেষ হওয়ার পর রুবেল ও বরকত মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দায় স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন।

মামলাটি তদন্ত করছেন সিআইডির সহকারি পুলিশ সুপার উত্তম কুমার বিশ্বাস। তিনি বলেন, ‘দুই ভাই যাদের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা সম্পদের মালিক হয়েছেন তাদের সবার নাম উল্লেখ করেছেন।’

গত ১৬ মে রাতে ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সুবল চন্দ্র সাহার বাড়িতে দুই দফা হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় গত ১৮ মে সুবল সাহা অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা করেন।

এফএইচ/এমএইচআর/এমআরএম