পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার পর্যটনকেন্দ্র কুয়াকাটার মৎস্য বন্দর আলীপুর ও মহিপুর ছিল তিনটি সিনেমা হল। খাপড়াভাঙ্গা নদীর এক পাড়ে ‘সোহেলা’ সিনেমা হল এবং অপর পাড়ে ছিল ‘নূপুর’ ও ‘সাগর’ সিনেমা হল। এক সময়ের রমরমা সিনেমা হলগুলো এখন আবাসিক ভবনে পরিণত হয়েছে। এক একটি সিনেমা হলে এখন অনেকগুলো পরিবার বসবাস করছে। বাংলা সিনেমার জনপ্রিয়তা কমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দেশজুড়ে কমেছে সিনেমা হলের সংখ্যা। বর্তমানে হলবিমুখ মানুষ টেলিভিশিন-কম্পিউটারসহ বিভিন্ন মাধ্যমে দেখতে পারছেন পছন্দের সিনেমা। একটা সময় ছিল সদ্য মুক্তি পাওয়া নতুন বাংলা সিনেমা দেখতে মানুষ ছুটে যেতেন সিনেমা হলে। পরিবার-পরিজন নিয়ে দলবেঁধে বাংলা ছবি দেখা ছিল অন্যতম প্রধান বিনোদন।
বিভিন্ন উৎসবে গ্রামের মানুষ সিনেমা হলের সামনে লাইন দাঁড়িয়ে পছন্দের সিনেমার টিকিট কেটে সিনেমা দেখতেন। ‘বেদের মেয়ে জোসনা’, ‘খায়রুন সুন্দরী’, ‘কমলার বনবাস’, ‘কাসেম মালার প্রেম’, ‘রাখাল বন্ধু’, ‘বাবা কেন চাকর’, ‘স্বামী কেন আসামি’, ‘গরিবের সংসার’, ‘মানুষ মানুষের জন্য’ ইত্যাদি সিনেমা হলে আসলে গ্রামের মানুষ ছুটে যেতেন।
আলীপুরের বাসিন্দা নুর ইসলাম বলেন, ‘এক সময় সিনেমা হলে গিয়ে সিনেমা দেখতাম। পরে গ্রামগঞ্জে সিডি-ভিসিআর নিয়ে সবাই মিলে একসঙ্গে দেখতাম। এখনতো মাঝেমধ্যে মোবাইলে দেখি।’
সুলেমান শিকদার বলেন, ‘শুক্রবার এলে বিকেল তিনটার সময় কাজকাম গুছিয়ে সাদাকালো টিভিতে বিটিভিতে প্রচারকৃত সিনেমা দেখতাম। এখন আর সময় হয় না।’
সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, মৎস্য বন্দর আলীপুর ‘সোহেল’ সিনেমা হলের সামনে সাইন বোর্ডটি থাকলেও নেই সিনেমার কোনো পোস্টার। হলের সামনের ফাঁকা জায়গায় রয়েছে লাকড়ির স্তুপ। সিনেমা হলের সেই লম্বা ঘরটিতে অনেকগুলো কক্ষ তৈরি করে বসবাসের জন্য ভাড়া দেয়া হয়েছে।
একই অবস্থা মৎস্য বন্দর মহিপুরের ‘সাগর’ সিনেমা হলের। আর ‘নূপুর’ সিনেমা হলের সামনে সিমেন্টের দোকান দেয়া হয়েছে। মূল গৃহে পরিবার-পরিজন নিয়ে বসবাস করছেন ভাড়াটিয়ারা।
আলীপুর সোহেলা সিনেমা হলের মালিক বাদল মিয়া বলেন, ‘মানুষ এখন আর সিনেমা হলে আসে না। দর্শকশূন্য হল চালিয়ে লাভ নেই। তাই আবাসিক হিসেবে ভাড়া দিয়েছি।’
জাতীয় পার্টির লতাচাপলী ইউনিয়ন সভাপতি আলী হোসেন খান বলেন, ‘সিনেমা হল আর সাদাকালো টিভি এক সময় খুব চলত। এখন আর চোখে পড়ে না। এখন স্মার্টফোন আর ডিশলাইনের মাধ্যমে সারা বিশ্বের খবর ও বিনোদন মানুষ ঘরে বসে দেখতে পায়।’
কাজী সাঈদ/এসআর/এমএস