শষ্য ভান্ডার হিসেবে খ্যাত উত্তরের জেলা নওগাঁ। ইরি-বোরো আবাদে ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষিরা। তবে প্রচণ্ড শীত ও কুয়াশার কারণে রোপণে কিছুটা বিঘ্ন হচ্ছে। আবহাওয়া ভালো হওয়ার অপেক্ষা করছেন চাষিরা। এ বছর ধানের দাম ভালো পাওয়ায় কৃষকদের মাঝে কিছুটা উচ্ছাস দেখা গেছে।
নওগাঁ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, এ বছর ইরি-বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে এক লাখ ৮০ হাজার ৬২৫ হেক্টর। বীজতলার লক্ষ্যমাত্রা আট হাজার ৯১৩ হেক্টর হলেও প্রায় সাড়ে ১০ হাজার চারা উৎপাদন করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ৬৩ হাজার হেক্টর জমি রোপণ করা হয়েছে।
গত কয়েকদিন থেকে সূর্যের দেখা মিলছে না। ঘনকুয়াশার সঙ্গে হালকা বাতাসে শীতের তীব্রতা বেড়েছে। প্রচণ্ড শীতে জবুথবু হয়ে পড়েছে মানুষ ও গৃহপালিত পশু।
বদলগাছী আবহাওয়া অধিদফতরের সূত্রে জানা যায়, শনিবার (২৩ জানুয়ারি) ১০ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াম তাপমাত্রা। শীতের কারণে ইরি-বোরো রোপণে বিঘ্ন হচ্ছে। শীতকে উপেক্ষা করে কাজ করছেন চাষিরা। কয়েকদিন দেরিতে চারা রোপণ করলে পিছিয়ে পড়তে হবে এজন্য অনেকেই শ্রমিক নিয়ে এখনই চারা রোপণ করছেন।
সদর উপজেলা পাহাড়পুর সরদার পাড়া গ্রামের কৃষক আনোয়ার হোসেন বলেন, ১০ বিঘা জমিতে চারা রোপণ করতে হবে। জমি প্রস্তুত করে অর্ধেক জমিতে চারা রোপণ করা হয়েছে। এরপর থেকে প্রচণ্ড শীত ও কুয়াশা দেখা দিয়েছে। জমিতে চারা রোপণের পর নষ্ট হওয়ার উপক্রম হচ্ছে। তাই আবহাওয়া ভালো হওয়ার জন্য অপেক্ষা করছি।
ঠাকুরগাঁও জেলা থেকে গত কয়েকদিন হলো নওগাঁয় এসেছেন কাজ করতে এসেছেন মামুনুর রশিদ ও সজিব ইসলাম। তারা বলেন, সকালে অনেক কুয়াশা ও শীত থাকে। পানিতে কাজ করতে শরীর হিম যায়। অনেক সময় আগুন পোহাতে হয়। এতো শীতের মধ্যেও পেটের তাগিদে কাজ করতে হচ্ছে। সকাল ৬টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত কাজ করে সাড়ে ৩শ টাকা পাওয়া যায়। শীতের কারণে কাজ করতে না পেরে দুইদিন বসে ছিলাম।
নওগাঁ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মো. শামছুল ওয়াদুদ বলেন, আবহাওয়া ভালো না পর্যন্ত কৃষকদের চারা রোপণের জন্য অপেক্ষা করতে বলা হচ্ছে। এবার ধানের ভালো দাম পাওয়ায় কৃষকদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা গেছে। তবে শেষ পর্যন্ত ধানের আবাদ বেশি হবে এবং কৃষকরা লাভবান হবেন বলে আশাবাদী তিনি।
আব্বাস আলী/এসএমএম/এমএস