বগুড়ার শেরপুরে জীবিত থাকা সত্ত্বেও মৃত দেখিয়ে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা থেকে এক আওয়ামী লীগ নেতার নাম কেটে দেয়া হয়েছে। নাম কর্তন হওয়া ওই নেতার নাম বদিউজ্জামান বদি। তিনি উপজেলার গাড়ীদহ ইউনিয়নের বনমরিচা গ্রামের বাসিন্দা।
এছাড়া স্থানীয় দুই নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে রয়েছেন বদি। পাশাপাশি আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ইউপি সদস্য (মেম্বার) পদের সম্ভাব্য প্রার্থী তিনি।
এ ঘটনার জন্য সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার আব্দুস সোবহান ও এক নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা সদস্য হেলেনা বিবিকে দায়ী করা হচ্ছে। সেই সঙ্গে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের ডাটাবেজ দেখে ঘটনাটি নিশ্চিত হওয়ার পর বুধবার (৩ ফেব্রুয়ারি) ওই দুই ব্যক্তিকে অভিযুক্ত করে থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন আওয়ামী লীগের ওই নেতা।
থানায় দেয়া অভিযোগ থেকে জানা যায়, গত ২০১৯ সালে গাড়ীদহ ইউনিয়নের বনমরিচা গ্রামের আব্দুল মোত্তালেব নামের এক ব্যক্তি মারা যান। সেই নামের সঙ্গে আওয়ামী লীগ বদিউজ্জামান বদির নাম ও জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর জুড়ে দিয়ে ভোটার তালিকা থেকে নাম কাটা হয়। এই তথ্যদাতা হলেন সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুস সোবহান। সেটি যাচাই-বাছাইকারী হিসেবে প্রত্যয়ন দিয়ে ফরমে স্বাক্ষর করেন সংরক্ষিত মহিলা সদস্য হেলেনা বিবি।
উপজেলা নির্বাচন অফিসের রেকর্ড ফাইলে সেই তথ্যই মিলেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে অভিযোগে।
ভুক্তভোগী আওয়ামী লীগ নেতা বদিউজ্জামান বদি অভিযোগ করে বলেন, আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ইউপি সদস্য পদে নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিয়েছি। সে মোতাবেক ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলছি। আমার জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে নানামুখি ষড়যন্ত্রে লিপ্ত প্রতিপক্ষ সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুস সোবহান।
এরই ধারাবাহিকতায় আমাকে নির্বাচন থেকে বিরত রাখতেই এই কূটকৌশল নেয়া হয়। ওই দুইজন প্রতিনিধি যোগসাজস করে নির্বাচন অফিসে মিথ্যা তথ্য দেয়ায় চূড়ান্ত ভোটার তালিকা থেকে আমার নাম কাটা হয়েছে। দুইদিন আগে ভোটার তালিকা যাচাই-বাছাই করতে গিয়ে দেখি, আমার নাম মৃত ব্যক্তি হিসেবে কর্তন করা হয়েছে।
পরে বিষয়টি উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাকে অবহিত করি। সেইসঙ্গে ঘটনার জন্য দায়ী ওই দুই ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দেই। যাতে করে এই ধরনের টাউট-বাটপার প্রকৃতির লোকজনের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হয়, যোগ করেন তিনি।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আছিয়া খাতুন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের মহিলা সদস্য ও সাবেক ইউপি সদস্যের দেয়া মিথ্যা তথ্যের ভিত্তিতে ভোটার তালিকা থেকে বদিউজ্জামানের নাম কর্তন হয়েছে। এহেন কর্মকাণ্ডের জন্য ওই দুই ব্যক্তিকে নির্বাচন অফিসে ডাকা হয়েছে ব্যাখ্যা চাওয়ার জন্য।
তিনি আরও বলেন, এছাড়া জীবিত ব্যক্তিতে মৃত হিসেবে নাম কর্তন হওয়ার বিষয়টি কমিশনকে সুপারিশ আকারে জানানো হবে। সেইসঙ্গে তার নাম সংশোধন করা হবে। নির্বাচনে প্রার্থী হতে কোনো সমস্যা হবে না বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
এদিকে অভিযুক্ত গাড়ীদহ ইউনিয়নের দুই নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুস সোবহান নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেন, তিনি কারও নাম কাটার জন্য নির্বাচন অফিসকে কোনো তথ্য দেননি বা সুপারিশ করেননি। আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রতিপক্ষ ফায়দা হাসিল করার জন্য তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ এনেছে বলে দাবি করেন এই সাবেক ইউপি সদস্য।
এদিকে, এক নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা ইউপি সদস্য হেলেনা বিবি এ প্রসঙ্গে বলেন, ভোটার তালিকায় নাম কর্তনের জন্য আমার যে সুপারিশ ও স্বাক্ষর ব্যবহার করা হয়েছে সেটি জাল ও ভুয়া। এর সঙ্গে আমার নূন্যতম কোনো সম্পৃক্তা নেই। তাই এই ঘটনায় জড়িত দোষী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিও দাবি করেন তিনি।
এমআরআর/এএসএম/এমএস