কুড়িগ্রামে পুরস্কার পাচ্ছে শিশুদের তৈরি চারটি অস্থায়ী শহীদ মিনার। ব্যতিক্রমী আয়োজন করেছে ‘প্রচ্ছদ কুড়িগ্রাম’ নামের একটি সংগঠন।
কুড়িগ্রাম পৌরসভার সব পাড়া-মহল্লায় শহীদ মিনার নির্মাণে অনুপ্রাণিত করার পাশাপাশি সবচেয়ে সুন্দর, অর্থবোধক ও দৃষ্টিনন্দন চারটি শহিদ মিনারকে পুরস্কৃত করবে তারা।
গত ১৫ দিন ধরে জেলা শহরের প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় শিশু-কিশোরদের সংগঠিত করে শহীদ মিনার নির্মাণ প্রতিযোগিতা শুরু করে প্রচ্ছদ কুড়িগ্রাম। মহান একুশে ফেব্রুয়ারিকে সামনে রেখে দেশপ্রেম, বোধ ও ভালোবাসা দিয়ে বাঁশ, গাছের ডাল, কলাগাছ, কাঠ, পুরোনো পেপার, মাটি, ইট, পাথর, বালিসহ হাতের কাছে যা পাওয়া যাবে তাই দিয়ে অস্থায়ী শহীদ মিনার নির্মাণ করে শ্রদ্ধা জানানোর জন্য উজ্জীবিত করে করে সংগঠনেরকর্মীরা।
প্রচ্ছদ কুড়িগ্রামের সংগঠক ইমতে আহসান শিলু বলেন, ‘করোনা পরিস্থিতির কারণে সারা দেশের মতো কুড়িগ্রামেও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড থমকে গিয়েছিল। এছাড়াও এবারে শহীদ মিনারে ব্যাপক সমাগমে নিষেধাজ্ঞা থাকায় এবং শিশু কিশোরদের উৎসাহিত করতে আমরা এ আয়োজনটি করেছি।‘
প্রচ্ছদ কুড়িগ্রামের সাধারণ সম্পাদক শ্যামল ভৌমিক বলেন, ‘একুশ আমাদের মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনা। বাঙলা ও বাঙালির মহান একুশে উদযাপন উপলক্ষে এবং অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার জন্য কুড়িগ্রামে শিশু কিশোরদের মাঝে একুশের চেতনা ছড়িয়ে দিচ্ছে প্রচ্ছদ কুড়িগ্রাম। পৌর এলাকার পাড়া-মহল্লায় অস্থায়ী শহীদ মিনার নির্মাণে উৎসাহিত করতে এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছি।
তিনি আরও বলেন, ‘আয়োজনের মধ্যদিয়ে কোমলমতি শিশু-কিশোরদের মাঝে একুশের চেতনায় বাঙালি জাতীয়তাবোধের উন্মেষ ঘটবে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবোধে শিশুরা বেড়ে উঠবে।’
সাবেক জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমাণ্ডার সিরাজুল ইসলাম টুকু বলেন, ‘এটি একটি মহতী উদ্যোগ। এ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাই আমি। আমরা মুক্তিযোদ্ধারা তাদের পাশে, থাকবো। অনান্য সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো এ ধরণের কাজে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
মাসুদ রানা/আরএইচ/জিকেএস