দেশজুড়ে

আউট সোর্সিংয়ে জনবল নিয়োগের নামে টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ

শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজে অ্যান্ড হাসপাতালে আউট সোর্সিং জনবল সরবরাহের অনুমতি পাওয়ার আগেই চাকরিপ্রত্যাশীদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে মেসার্স জুবাইদা কনস্ট্রাকশনের বিরুদ্ধে। তবে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, যারা কাজ করবেন শুধু তাদের কাছ থেকেই গ্যারান্টি হিসেবে ২০ হাজার টাকা নেয়া হচ্ছে।

ভুক্তভোগী সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার শিয়ালকোল ইউনিয়নের দিয়ারবৈদ্যনাথ গ্রামের মুকুল শেখের ছেলে জহুরুল ইসলাম বলেন, ‘শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজে অ্যান্ড হাসপাতালে আউট সোর্সিং জনবল নিয়োগ দেয়ার কথা বলেন মেসার্স জুবাইদা কনস্ট্রাকশনের প্রোপাইটর সিরাজগঞ্জ পৌর এলাকার হোসেনপুর মহল্লার আব্দুল জলিল। গত বছরের ১ অক্টোবর তিনি আমার কাছ থেকে ৭০ থেকে হাজার টাকা নেন। এখন পাঁচ মাস পার হলেও চাকরিতে যোগ দেয়া নিয়ে নানা টালবাহানা করছেন।’

আরেক ভুক্তভোগী রায়গঞ্জ উপজেলার পাঙ্গাসী ইউনিয়নের বাহ্মণগাঁতী গ্রামের মতিউর রহমানের ছেলে এরশাদ আলী, একই গ্রামের এমদাদুল হক, শিয়ালকোল ইউনিয়নের দিয়ারবৈধ্যনাথ গ্রামের মোতালেকসহ প্রায় ২৫-৩০ জনের অভিযোগ, শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজে অ্যান্ড হাসপাতালে ওয়ার্ড বয়, মালী ও গেটম্যান হিসেবে তাদের নিয়োগ দেয়ার নামে প্রত্যেকের কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা নিয়েছেন মেসার্স জুবাইদা কনস্ট্রাকশনের প্রোপাইটর আব্দুল জলিল ও তার পার্টনার একই মহল্লার আফসার আলী ছেলে মো. পিপুল হোসেন। কিন্তু অনেক দিন হয়ে গেলেও আউট সোর্সিংয়ে কোনো কাজ দিতে পারেননি। দিনের পর দিন নানা অজুহাতে টালবাহানা করছেন।

টাকা ফেরত পেতে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বরাবর অভিযোগ দেয়ার জন্য কাগজপত্র তৈরি করছেন ভুক্তভোগীরা। তার এ অভিযোগের স্বপক্ষে চাকরিপ্রত্যাশীদের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেয়ার কয়েকটি অডিও রেকর্ডও রয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মেসার্স জুবাইদা কনস্ট্রাকশনের স্বত্বাধিকারী মো. আব্দুল জলিল বলেন, ‘আমি ঢাকা আছি পড়ে কথা বলব।’

অপর পার্টনার মো. পিপুল হোসেন অভিযোগের বিষয়ে বলেন, ‘শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজে অ্যান্ড হাসপাতালে প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ জনকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। যারা কাজ করবেন তাদের গ্যারান্টি হিসেবে ২০ হাজার টাকা নেয়া হচ্ছে। এটা অন্যায় কিছু নয়। আমরা একইভাবে সারা বাংলাদেশে অন্যান্য দফতরেও আউট সোর্সিংয়ে জনবল নিয়োগ দিচ্ছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের ঢাকার পার্টনার আছে। তবে স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে আমাদের কোনো অনুমোদন নেই। আমরা স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তার মাধ্যমে গোপনে এই নিয়োগ দিচ্ছি।’

এ বিষয়ে শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজে অ্যান্ড হাসপাতালে পরিচালক ডা. মো. আবুল কাশেম বলেন, ‘এখন পর্যন্ত স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে জনবল নিয়োগের কোনো বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়নি। লোক নিয়োগের প্রশ্নই ওঠে না। তবে কোনো অসাধু ঠিকাদার জনবল নিয়োগের কথা বলে টাকা লেনদেন করে থাকলে তাহলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেবে।’

ইউসুফ দেওয়ান রাজু/এসআর/জেআইএম