নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে আওয়ামী লীগের বিবদমান দু’গ্রুপের সহিংসতার জের ধরে ১১টি মামলা দায়েরের পর উপজেলার প্রায় জনপ্রতিনিধি আত্মগোপনে রয়েছেন। এতে বিভিন্ন পরিষদের দৈনন্দিন কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলা চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহাব উদ্দিন বেশিরভাগ সময় ঢাকায় থাকেন। বিবদমান সময়ে তিনি এলাকায় আসছেন না। ভাইস চেয়ারম্যান আজম পাশা চৌধুরী রুমেল মামলায় পলাতক, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান আরজুমান পারভীনও আতঙ্কে অফিস করছেন না।
এছাড়া মামলায় আসামি হয়ে উপজেলার এক নম্বর সিরাজপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরনবী চৌধুরী, দুই নম্বর চরপার্বতী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হোসেন কামরুল, তিন নম্বর চরহাজারী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নুরুল হুদা, পাঁচ নম্বর চরফকিরা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জামাল উদ্দিন লিটন, ছয় নম্বর রামপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ইকবাল বাহার চৌধুরী, সাত নম্বর মুছাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম শাহীন চৌধুরী ও আট নম্বর চরএলাহী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবদুর রাজ্জাক পলাতক রয়েছেন।
গত তিন মাসের সৃষ্ট ঘটনাকে কেন্দ্র করে দু’টি হত্যাকাণ্ড ঘটে। আওয়ামী লীগের বিবদমান দু’গ্রুপের দফায় দফায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়। প্রশাসন একাধিকবার ১৪৪ ধারাও জারি করে।
এদিকে, পুলিশসহ সংঘর্ষে লিপ্ত বিবদমান দু’টি গ্রুপ একে অপরের বিরুদ্ধে কোম্পানীগঞ্জ থানা ও নোয়াখালীর আদালতে হত্যাসহ ১১টি মামলা দায়ের করেছে। এসব মামলার তালিকায় জনপ্রতিনিধিদের নাম থাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গ্রেফতার এড়াতে আত্মগোপনে রয়েছেন।
এদিকে, জনপ্রতিনিধিদের অনুপস্থিতিতে স্ব স্ব ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এতে সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ চরমে ভোগান্তিতে পৌঁছেছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার জিয়াউল হক মীর বলেন, ‘বিষয়টি আমি অবগত নই। তবে খোঁজখবর নিয়ে কেউ অনুপস্থিত থাকলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
এসজে/এমএস