ফেনীর আলোচিত উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান একরামুল হক একরাম হত্যার সাত বছর পার হলেও এখনো মামলার রায় কার্যকর করা হয়নি।
করোনা মহামারির কারণে এক বছর ধরে হাইকোর্টে আসামিদের আপিলের শুনানি হয়নি। ফলে ডেথ রেফারেন্সের শুনানিও আটকে আছে। এতে রায় ঘোষণার তিন বছর পার হলেও এখনো আসামিদের দণ্ড কার্যকর করা যায়নি।
তবে এ মামলায় দন্ডপ্রাপ্ত ১৫ আসামি এখনো পলাতক রয়েছেন। এদের মধ্যে আট আসামি জামিনে গিয়ে পলাতক রয়েছেন। বাকি সাত আসামি এখনো ধরা পড়েননি। বাকি মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ২৪ আসামি কারাগারে রয়েছেন।
জামিনে গিয়ে পলাতক আসামির মধ্যে রয়েছেন আবিদুল ইসলাম, এমরান হোসেন, জাহিদুল হাসেম, চৌধুরী মোহাম্মদ নাফিস উদ্দিন, জিয়াউর রহমান, নুরুল আবছার ওরফে জাহিদ চৌধুরী, আরমান হোসেন ও জসিম উদ্দিন। এছাড়াও ঘটনার শুরু থেকেই পলাতক রয়েছেন ইসমাইল হোসেন, কফিল উদ্দিন মাহমুদ, টিটু, রাহাত মোহাম্মদ এরফান আজাদ, শফিকুর রহমান, একরাম হোসেন, মোসলেহ উদ্দিন আসিফ।
এদেরকে গ্রেফতারের জন্য ফেনী মডেল থানা পুলিশের থেকে প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর হোসেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, একরামকে পুড়িয়ে মারার ঘটনায় তার ভাই রেজাউল হক বাদী হয়ে ফেনী মডেল থানায় মামলা করেন। গোয়েন্দা পুলিশের তৎকালীন ওসি আবুল কালাম আজাদ তদন্ত শেষে ৫৬ জনের বিরুদ্ধে ২০১৪ সালের ৩০ আগস্ট আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন।
এই মামলার ৫৬ আসামির মধ্যে ১৬ জন আদালতে ১৬৪ ধারায় হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত থাকার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।
ফেনী জজ আদালতের পিপি হাফেজ আহম্মদ বলেন, রায় ঘোষণার পর কিছু আসামি আপিল করেছেন। করোনা পরিস্থিতির কারণে উচ্চ আদালতে আপিল শুনানি হয়নি। যার কারণে ডেথ রেফারেন্সের শুনানিও হচ্ছে না।
মূলত করোনাকালীন পরিস্থিতির কারণেই রায় কার্যকরে বিলম্ব হচ্ছে বলে জানান তিনি।
প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালের ২০ মে ফেনী শহরের জি এ একাডেমি এলাকায় প্রকাশ্যে একরামুল হকের গাড়ির গতিরোধ করে তাকে কুপিয়ে, গুলি করে ও গাড়িসহ পুড়িয়ে হত্যা করা হয়। ২০১৮ সালের ১৩ মার্চ ফেনী জেলা ও দায়রা জজ আমিনুল হক আলোচিত এ হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করেন।
রায়ে ৫৬ আসামির মধ্যে ৩৯ জনের ফাঁসির আদেশ ও ১৬ জনকে খালাস দেয়া হয়। এদের মধ্যে সোহেল নামের এক আসামি রায় ঘোষণার আগেই র্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ মারা যান।
এসএমএম/জেআইএম