দেশজুড়ে

১০ শর্তে প্রবেশনে পরিবারে ফিরলেন মাদক মামলার আসামি

ঠাকুরগাঁওয়ে ৩ বছর আগের ইয়াবার মামলায় ৫ বছরের দণ্ডিত আসামি মামুন সরকারকে ১০ শর্তে প্রবেশনে পরিবারের সঙ্গে থাকার অনুমতি দিয়েছেন আদালত। প্রবেশনে থাকার অনুমতি ঠাকুরগাঁওয়ে এই প্রথম।

সোমবার দুপুরে আসামির উপস্থিতিতে ঠাকুরগাঁওয়ের অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালতের বিচারক বি.এম তারিকুল কবীর এ রায় ঘোষণা করেন বলে জানান রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আব্দুল হামিদ।

৫ বছর কারাদণ্ডের পাশাপাশি তাকে ৫০০ টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে আরও ১ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। একই রায়ে বলা হয়, ‘দণ্ডিত মামুন সরকার মুচলেকায় লিখিত শর্তসাপেক্ষে প্রবেশন অফিসারের তত্ত্বাবধানে ও তার স্ত্রী শ্যামলী আক্তারের জিম্মায় প্রবেশনে যেতে সম্মত হওয়ায় তার কারাদণ্ড ও জরিমানা স্থগিত করে আদালত এবং ১০ শর্তে তাকে পরিবারের সাথে থাকার অনুমতি দেয়া হয়।’

দণ্ডপ্রাপ্ত মামুন সরকার (৩৮) সদর উপজেলার বেগুনবাড়ি ইউনিয়নের দানারহাট বান্দিগড় ধনিপাড়া গ্রামের প্রয়াত আজাহারুল ইসলামের ছেলে। দণ্ডিত এই ব্যক্তি প্রায় আড়াই বছর কারাভোগ করেন।

প্রবেশনের ১০ শর্ত হলো- আদালত কর্তৃক নিযুক্ত প্রবেশন অফিসারের তত্ত্বাবধানে নিজেকে সমর্পণ করিব; আমার বাসস্থান এবং জীবিকার উপায় সম্পর্কে প্রবেশন অফিসারকে অবহিত করিব; সৎ-শান্তিপূর্ণ জীবনযাপন করিব এবং সদোপায়ে জীবিকা অর্জনের জন্য সচেষ্ট থাকিব; আদালত কর্তৃক তলব হইলে তদানুসারে হাজির হইয়া দণ্ড ভোগ করিতে বাধ্য থাকিব; সময় সময় প্রবেশন অফিসার কর্তৃক প্রদেয় আইনানুগ মৌখিক বা লিখিত উপদেশসমূহ মানিয়া চলিব; দেশে প্রচলিত আইনে শাস্তিযোগ্য কোনো প্রকার অপরাধ কর্মে লিপ্ত হইব না; স্বেচ্ছায় বা কাহারও প্ররোচনায় শাস্তিভঙ্গের কোনো কাজে লিপ্ত হইব না অথবা অংশগ্রহণ করিব না; কোনো প্রকার মাদকদ্রব্য সেবন করিব না, হেফাজতে রাখিব না এবং কোনো মাদকদ্রব্য সেবী বা বহনকারী বা হেফাজতকারীর সহিত মেলামেশা করিব না; পরিবারের সদস্য তথা মাতা, স্ত্রী, কন্যা, ভগ্নিসহ আত্মীয়-প্রতিবেশীর সহিত সদাচার করিব, তাদের কাউকে মানসিক বা শারীরিক ভাবে নির্যাতন করিব না; ধর্মীয় অনুশাসন যথাযথভাবে মানিয়া চলিব।

মামলার বরাতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আব্দুল হামিদ বলেন, ২০১৮ সালের ১৬ মার্চ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সদরের জলার বেগুনবাড়ি ইউনিয়নের দানারহাট বান্দিগড় ধনিপাড়া গ্রামে প্রয়াত আজাহারুল ইসলামের বাড়িতে অভিযান চালায় পুলিশ। এ সময় ওই বাড়ি থেকে মামুন সরকারকে আটক করা হয় এবং তার শরীরে তল্লামি করে ৫৫ পিস ইয়াবা উদ্ধার করে পুলিশ।

এ ঘটনায় ওইদিনই তৎকালীন ঠাকুরগাঁও সদর থানার এসআই নবিউল ইসলাম বাদী হয়ে মাদকদ্রব্য আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্ত শেষে ২০১৮ সালের ৪ জুন আদালতে চার্জশীট দাখিল করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই অনিল রায়। এ মামলায় ৭ জনের সাক্ষ্যপ্রমাণ শেষে মামুন সরকার দোষী হিসেবে প্রমাণিত হন।

আইনজীবী আব্দুল হামিদ বলেন, প্রবেশন আইনে ঠাকুরগাঁওয়ের আদালতে এটিই প্রথম রায়। এর আগে কখনও কোনো আসামীকে প্রবেশন দেয়া হয়নি। আসামি মামুন সরকারকে জেলার প্রবেশন কর্মকর্তা শাকিল মাহমুদের তত্ত্বাবধানে দিয়ে দেয়া হয়েছে। প্রবেশনের শর্ত না মানলে মামুন সরকারকে আবার কারাগারে যেতে হবে।

তিনি বলেন, আদালতের এমন উদ্যোগ খুবই ইতিবাচক ও আশাব্যঞ্জক। এতে সমাজে অপরাধের প্রবণতা কমবে। কল্যাণ আসবে পরিবার ও সমাজে।

ঠাকুরগাঁও জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের প্রবেশন কর্মকর্তা শাকিল মাহমুদ বলেন, দণ্ডপ্রাপ্ত মামুন সরকারকে আমরা সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রাখব। আদালতের দেয়া ১০ শর্তাবলী তিনি পালন করছেন কিনা এ বিষয়ে ৩ মাস পরপর আদালতে রিপোর্ট দাখিল করা হবে। যদি তিনি স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসেন তাহলে সেটিও আদালতে রিপোর্ট দেয়া হবে। পরবর্তীতে আদালত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে মামুন সরকারের বিষয়ে।

তানভীর হাসান তানু/এফএ/জিকেএস