দেশজুড়ে

হেফাজতের নায়েবে আমিরের ‘মান’ ভাঙালেন মামুনুল, পদত্যাগ প্রত্যাহার

হেফাজতে ইসলামের নায়েবে আমির ও নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটির সভাপতি মাওলানা আব্দুল আউয়াল তার পদত্যাগের ঘোষণা থেকে পিছু হটলেন। হেফাজতের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতৃবৃন্দদের সঙ্গে বৈঠকের পর তিনি তার পদত্যাগের ঘোষণা প্রত্যাহার করে নেন।

বুধবার (৩১ মার্চ) নারায়ণগঞ্জ শহরের ডিআইটি এলাকায় রেলওয়ে কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে হেফাজতের চার সদস্যের এক প্রতিনিধি দলের বৈঠক শেষে বিকেলে গণমাধ্যম কর্মীদের কাছে এই কথা জানান দলের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম-মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক।

হেফাজতের কেন্দ্রীয় কমিটির প্রতিনিধি দলে উপস্থিত ছিলেন- ঢাকা মহানগর শাখার সভাপতি জুনায়েদ আল হাবীব, যুগ্ম-মহাসচিব ফজলুল করীম কাসেমী এবং যুগ্ম-মহাসচিব মুফতি নাসির উদ্দিন মনির, নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর কমিটির নেতৃবৃন্দ।

মাওলানা মামুনুল হক জানান, হেফাজতের আমির জুনায়েদ বাবুনগরীর নির্দেশে তারা মাওলানা আবদুল আউয়ালের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে নারায়ণগঞ্জে এসেছেন। আর সম্প্রতি নেতাকর্মীদের সঙ্গে মাওলানা আব্দুল আউয়ালের ভুল বোঝাবুঝি ও মান-অভিমানের সৃষ্টি হয়েছিল। সবার অনুরোধে সবকিছু ভুলে আব্দুল আউয়াল তার পদত্যাগের ঘোষণা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। পূর্বের পদে বহাল থেকেই তিনি হেফাজতের পরবর্তী কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকবেন।

হরতালে সহিংসতার বিষয়ে মামুনুল হক বলেন, ‘হেফাজতে ইসলাম কখনো সহিংসতায় বিশ্বাস করে না। হরতালে হেফাজতের নেতাকর্মীরা শান্তিপূর্ণ অবস্থান নিয়েছে। কোথাও আগ বাড়িয়ে হামলা করে ভাঙচুর করেনি। হেফাজত কখনই বিশৃঙ্খলা পছন্দ করেন না। হরতালে হেফাজত ছিল অহিংস। হেফাজত কোনো ধরনের হামলা, মারধর ও ভাঙচুর করেনি। এটা বহিরাগত কেউ করেছে।’

সাংবাদিকদের উপর হামলা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘হেফাজত সাংবাদিকদের উপর হামলা করেনি। সংবাদপত্রের স্বাধীনতায় আমরা বিশ্বাস করি। সংবাদিকদের সঙ্গে সুসম্পর্ক রেখে আমরা কাজ করছি।হেফাজতে ইসলাম সাংবাদিকদের মূল্যায়ন করে। সাংবাদিকদের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে।’

উল্লেখ্য, শবে বরাতে নারায়ণগঞ্জের ডিআইটি রেলওয়ে কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে বয়ানে নানা ক্ষোভের বিষয় তুলে ধরে হেফাজতের পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছিলেন মাওলানা আবদুল আউয়াল। এ সময় তিনি অভিযোগ করেন দলীয় নেতাকর্মীরা তার নির্দেশনা মানছেন না।

পরদিন মঙ্গলবার দুপুরে ‘শায়েখ মাওলানা আবদুল আউয়াল সাহেব সমর্থক’ নামে একটি ফেসবুক পেজে তার পদত্যাগ সংক্রান্ত বক্তব্যের ভিডিও আপলোড করা হয়। ৪ মিনিট ১৩ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে আবদুল আউয়াল হেফাজতে ইসলাম থেকে পদত্যাগের ঘোষণার কথা জানান। পরে তার বক্তব্যের ওই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হয়।

শাহাদাত হোসেন/জেডএইচ