দেশজুড়ে

ওয়ার্ড কমিটির সভাপতি হলেন দাদা, প্রাণ গেল নাতির

পাবনার সাঁথিয়ায় আওয়ামী লীগের ওয়ার্ড কমিটি গঠন নিয়ে দু’ গ্রুপের সংঘর্ষে আলহাজ (২৮) নামের এক যুবক খুন হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও আটজন।

বৃহস্পতিবার (১ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার ঘুঘুদহ বড় বিলে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

নিহত আলহাজ ঘুঘুদহ গ্রামের (পূর্বপাড়ার) মানিক মোল্লার ছেলে এবং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সদ্যঘোষিত সভাপতি সরবেশ মোল্লার নাতি।

আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পুলিশ এ ঘটনায় ১৩ জনকে আটক করেছে।

স্থানীয়রা জানান, সাঁথিয়া উপজেলার গৌরিগ্রাম ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের কমিটি গঠন নিয়ে সরবেশ মোল্লা এবং মোসলেম মাস্টার গ্রুপের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। গত সোমবার (২৯ মার্চ) ৯ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সম্মেলনে সরবেশ মোল্লা সভাপতি নির্বাচিত হন। মোসলেম মাস্টার ও তার সমর্থকরা তা প্রত্যাখ্যান করেন। এনিয়ে গত কয়েকদিন চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছিল।

বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সরবেশ মোল্লা গ্রুপের লোকজন ঘুঘুদহ পূর্বপাড়া মাঠে কাজ করতে যান। সেখানে মোসলেম মাস্টার গ্রুপের লোকজনের সঙ্গে তাদের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। দুই পক্ষের লোকজন লাঠিসোটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এরই একপর্যায়ে আলহাজ প্রতিপক্ষের লোকজনের ছোড়া ফলায় বিদ্ধ হন। এসময় আরও পাঁচজন আহত হন। তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আলহাজকে মৃত ঘোষণা করেন। এদিকে আলহাজের মৃত্যু সংবাদে সরবেশ গ্রুপের লোকজন ক্ষিপ্ত হয়ে মোসলেম গ্রুপের লোকজনের বাড়িতে হামলা চালান। এতে মতিয়ার নামের একজনসহ তিনজন আহত হন। গুরুতর আহত পাঁচজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।সাঁথিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসিফ মোহাম্মদ সিদ্দিকুল ইসলাম জানান, সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনাস্থল থেকে মোসলেম মাস্টার গ্রুপের প্রধান মোসলেমসহ ১৩ জনকে আটক করা হয়েছে।

আটকরা হলেন-মোসলেম মাস্টার (৪৫), শহিদুল ইসলাম (৩৯), শওকত হোসেন (২৫), মজনু (২৭), এমদাদুল হক (৫০), জহির (৪০), শাহিন (৩৫), রিকাত আলী (৬৫), আবেদীন (৫৫), কামাল (৩৭), মাসিদুল (২৪), নবু প্রাং (৫০) ও শাহাব উদ্দীন (৩৫)। তারা সবাই ঘুঘুদহ গ্রামের বাসিন্দা।

পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বেড়া সার্কেল) জিল্লুর রহমান জানান, অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব এবং নেতৃত্বের কোন্দলকে কেন্দ্র সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

সাঁথিয়া থানার ওসি জানান, নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠান হয়েছে। এ পর্যন্ত (বিকেল ৫টা) থানায় কেউ অভিযোগ দায়ের করেননি। আমিন ইসলাম/এসআর/জিকেএস