আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী বিএনপি থেকে অনুপ্রবেশকারীর পক্ষ না নেয়ায় কক্সবাজার সদরের ইসলামপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মনজুর আলম দাদাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্রকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল করিম মাদুর একক স্বাক্ষরিত একটি অব্যাহতিপত্র সোমবার (১৩ এপ্রিল) স্থানীয় পত্রিকায় বিজ্ঞাপন আকারে প্রচার করা হয়েছে। এ ঘটনা এলাকায় আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
সূত্র মতে, ২০২০ সালের শেষের দিকে ইসলামপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মনজুর আলমের আকস্মিক মৃত্যুর পর গঠনতন্ত্র অনুযায়ী কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি মনজুর আলম দাদাকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব দেয়া হয়। সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু তালেব ও সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল করিম মাদু স্বাক্ষরিত একটি পত্রে এ দায়িত্বভার পান মনজুর আলম দাদা।
স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের অভিযোগ, ২০১৪ সালের ১১ নভেম্বর ঘোষণা দিয়ে আওয়ামী লীগ কার্যালয় ও বঙ্গবন্ধু এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি ভাঙচুর করে উল্লাসকারী এক সময়ের বিএনপি নেতা মো. শরিফ এখন উপজেলা আওয়ামী লীগের নির্বাহী কমিটির দায়িত্বশীল (উপ-প্রচার সম্পাদক)। তার আপন ভাই উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল কালাম ইসলামপুর ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান। আসন্ন ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন পেতে চেষ্টা-তদবির চালিয়ে যাচ্ছেন বিএনপির সাবেক নেতা শরিফ। কিন্তু অনুপ্রবেশকারী হিসেবে তার মনোনয়নের বিষয়ে বিরোধিতা করে আসছেন সভাপতি মনজুর আলম দাদা। এ কারণে তাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতির ঘোষণা দেন উপজেলা সাধারণ সম্পাদক। আর এসবের পেছনে কলকাঠি নাড়ছেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহাজান চৌধুরী।
জানতে চাইলে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি (ভারপ্রাপ্ত) মনজুর আলম দাদা বলেন, ‘ছাত্রলীগের স্কুল কমিটির দায়িত্বশীল হয়ে শুরু করে আজ মূলদলের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছি। বিএনপি-জামায়াতের ঘাঁটি থাকা ইসলামপুরে কারা নৌকার জন্য ত্যাগী আমাদের চেয়ে কেউ ভালো জানেন না। সুবিধার জন্য কালকে দলে অনুপ্রবেশ করা কারো পক্ষে কাজ করা নীতিবিরোধী। শিক্ষাজীবনে মৌলবাদী ছাত্র সংগঠনের দায়িত্বপালন করা আমার বর্তমান সেক্রেটারির নৌকার প্রতি কমিটমেন্ট না থাকতে পারে কিন্তু আমার আছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘অনুপ্রবেশকারী শরিফকে দলীয় মনোনয়নের পাইয়ে দিতে কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছেন শাহজাহান। আমাকেও প্রস্তাব দেয়া হয়েছে যেন অনাপত্তিপত্র দিই। আমি বিরোধিতা না করে বলেছি, চারজন মনোনয়ন প্রত্যাশী আছে। আমরা সবার নাম যথাযথ মাধ্যমে কেন্দ্রে পাঠাব। যাকে দলের সভানেত্রী নৌকা মনোনয়ন দিয়ে পাঠাবেন, মাঠে তার এবং নৌকার জয়ের জন্য যা করার করব। তার সব কর্মকাণ্ড ওয়ার্ড সভাপতি-সম্পাদক ও নেতাকর্মীদের অপছন্দ হওয়ায় ১২ এপ্রিল আমার অফিসে সবাই বৈঠক করে ইউনিয়ন সেক্রেটারিকে বয়কট করার সিদ্ধান্ত নেন। সেটি জেনে এবং আমার ঘোষণাকে শরিফের বিপক্ষে অবস্থান উল্লেখ করে করোনার প্রভাবে নির্বাচন পেছানোর সুযোগে আমাকে সভাপতির পদ থেকে সরাতে অপকৌশলের আশ্রয় নেয়া হয়েছে। উপজেলা সাধারণ সম্পাদক মাহমদুল করিম মাদুকে দিয়ে করানো অপকৌশলটি দলের গঠনতন্ত্র বিরোধী।’
এসব বিষয়ে জানতে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান চৌধুরীকে একাধিকবার কল দেয়া হয়। তবে রিং হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। পরে ক্ষুদেবার্তা পাঠিয়েও কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
কক্সবাজার সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল করিম মাদু বলেন, সংগঠনবিরোধী কার্যকলাপের অভিযোগ পাওয়ায় তাকে (ইউনিয়ন সভাপতিকে) অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। সাধারণ সম্পাদক এককভাবে কাউকে অব্যাহতি দেয়া গঠনতন্ত্র সাপোর্ট করে কি-না, প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, তাকে দায়িত্বভার দেয়ার সময়ও বৈঠকহীন সভাপতি-সম্পাদক স্বাক্ষরিতপত্র দেয়া হয়। তখনও গঠনতন্ত্র মানা হয়নি। এখন কেন গঠনতন্ত্রের প্রশ্ন আসছে? আমার স্বাক্ষরে করার সুযোগ থাকলে আমি আমার উপজেলা সভাপতিকেও বহিষ্কার করতাম।
শরিফের বিষয়ে তিনি বলেন, জামায়াত ও রাজাকার ছাড়া বিএনপি-জাসদ-সিপিবি ও অন্যদল থেকে আওয়ামী লীগে যে কেউ আসতে পারবে, এমন একটা মৌখিক নির্দেশনা কেন্দ্র থেকে দেয়া আছে। আগে কে কী ছিল সেটা বড় কথা নয়।
কক্সবাজার সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু তালেব বলেন, ‘কমিটির সভাপতির মৃত্যুজনিত কারণে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি মনজুর আলম দাদা ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হয়েছিলেন, এখনও আছেন। আর দলীয় ফোরামে কাউকে অব্যাহতি দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়নি। যখন যা ইচ্ছে করার সুযোগ এখানে নেই। ইসলাপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সবার কাছে গ্রহণযোগ্য ক্লিন ইমেজের নেতা।
সায়ীদ আলমগীর/এসআর/জিকেএস