দেশজুড়ে

ত্রাণ পাওয়া যায় কি-না যাচাই করতে ৩৩৩-এ ফোন

চাঁদপুরে অতি উৎসাহী হয়ে ত্রাণ পাওয়া যায় কি-না যাচাই করতে ৩৩৩-এ ফোন করেন শাহাদাত হোসেন নামের এক যুবক। মঙ্গলবার (২৭ এপ্রিল) সকালে টেলিভিশনে সংবাদ দেখে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহার ত্রাণ সহায়তার জন্য ফোন দেন তিনি।

যদিও বর্তমানে তার কোনো ধরনের ত্রাণের প্রয়োজন নেই। পরে পৌরসভা কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিতভাবে দেন যে, তার ত্রাণের প্রয়োজন নেই। শাহাদাত হাজিগঞ্জ পৌরসভা ৭ নম্বর ওয়ার্ডের টোরাঘর মৃধাবাড়ির মৃত ফারুক মৃধার ছেলে।

জানা যায়, গত ২৭ এপ্রিল সকাল ৯টায় ৩৩৩-এ ফোন দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপহার ত্রাণ সহায়তার জন্য আবেদন করেন তিনি। যেহেতু তিনি পৌরসভার বাসিন্দা সেহেতু পৌরসভার ওই ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মনির কাজী কিছুক্ষণ পর সাড়ে ৯টায় ত্রাণ সহায়তা দিতে তার মোবাইলে ফোন দেন। এ সময় তিনি জানান, তার বা তার বাচ্চাদের কোনো ধরনের ত্রাণ সহায়তার প্রয়োজন নেই। পরে পৌরসভায় সশরীরে হাজির হয়ে বিষয়টি নিশ্চিত করেন তিনি।

এ বিষয়ে শাহাদাত হোসেন বলেন, আমি মূলত ৩৩৩-এ ফোন দিয়ে ত্রাণ সহায়তা পাওয়া যায় কি-না তা নিশ্চিত হওয়ার জন্যই কল করেছি। বিষয়টি এমন হবে আমি তা ভাবিনি। ওয়ার্ড কাউন্সিলর আমাদের পারিবারিক অবস্থান সম্পর্কে জানেন। তারপরও তিনি আমাকে যদি প্রয়োজন হয় ত্রাণ গ্রহণ করার জন্য বলেন। কিন্তু এই মুহূর্তে আমার কোনো সহযোগিতার প্রয়োজন নেই বলে আমি তা গ্রহণ করিনি।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোমেনা আক্তার জানান, যেহেতু তিনি পৌরসভার বাসিন্দা তাই পৌরসভার মাধ্যমে আমরা তার ত্রাণ পৌঁছে দেয়ার উদ্দেশ্যে খোঁজখবর নিলে তিনি জানান, তার পরিবারের কোনো প্রকার সহযোগিতার প্রয়োজন নেই। ফোন দিলে ত্রাণ পাওয়া যায় কি-না তা নিশ্চিত হওয়ার জন্যই তিনি কল করেছিলেন।

তিনি আরও বলেন, যেহেতু আমাদের সরকারি কাজের রিপোর্ট জমা দিতে হয়। তাই আমরা উনার কাছ থেকে একটি লিখিত রেখেছি যে, ওনার কোনো ধরনের ত্রাণ সহায়তার প্রয়োজন নেই।

এ সময় তিনি সবার প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, করোনা মহামারির এমন দুর্যোগকালীন সময়ে কেউ যেন এই ধরনের কাজ না করেন। লকডাউনের এই সময় যারা কর্মহীন অসহায় আছেন আমরা সবাই যার যার অবস্থান থেকে তাদের পাশে দাঁড়াতে চাই এবং প্রধানমন্ত্রীর উপহার তাদের কাছে পৌঁছে দিতে চাই। তাই যাদের ত্রাণের কোনো প্রয়োজন নেই তারা যেন অযথা ফোন না করেন।

নজরুল ইসলাম আতিক/এআরএ