ফরিদপুরে মহাসড়কের এক পাশের এক কিলোমিটার লম্বা অংশ দেবে গেছে। এর মধ্যেই ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন চলাচল করছে সব ধরনের যানবাহন। এমন অবস্থায় প্রতিদিনই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। গত দেড় বছরের অধিক সময় ধরে এমন অবস্থা চলতে থাকলেও এ নিয়ে কর্তৃপক্ষকে কোনো পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি।
তবে সড়ক বিভাগ বলছে, ওই অংশে সর্বশেষ সংস্কার কাজ হয়েছে আড়াই বছর আগে। ফলে ইচ্ছে থাকলেও ফরিদপুর সড়ক বিভাগের কোনো উপায় নেই। সংস্কার কাজ করতে আরও প্রায় ৬ মাস অপেক্ষা করতে হবে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, সড়কের মধ্যভাগের পূর্বপাশের অংশে ট্রাকের চাকার চাপে সড়কটি দুই ফুট করে দেবে গেছে। দেবে যাওয়া ওই অংশের গভীরতা দুই থেকে তিন ইঞ্চি পর্যন্ত। সড়কের পাশে নেই কোনো অ্যাপ্রোচ সড়ক। ফলে দ্রুতগামী বড় বড় যানবাহনের পাশাপাশি ছোট ছোট যানবাহন চলাচল ও পথচারীদের যাতায়াতের ক্ষেত্রে সীমাহীন দুর্ভোগের মুখে পড়তে হচ্ছে।
কোমরপুর এলাকার বাসিন্দা ব্যবসায়ী মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘পাথর ভর্তি দশ চাকার ট্রাক চলায় সড়কের এ সর্বনাশ হয়েছে। গত দেড় বছর ধরে সড়কের ওই অংশ দেবে আছে। অথচ সড়কটি সংস্কারের উদ্যোগ নেয়নি সড়ক বিভাগ। অথচ বর্তমানে তীব্র রোদের কারণে প্রতিনিয়ত দেবে যাওয়ার পরিমাণ বেড়ে যাচ্ছে।’
ফরিদপুর সদরের বৈঠাখালী গ্রামের বাসিন্দা ইজিবাইক চালক সুমন ইসলাম বলেন, ‘গাড়ি চালিয়ে বাড়ি থেকে ফরিদপুর শহরে যেতে বিপদে পড়ি। সড়কের যে অবস্থা তাতে প্রতিদিনই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। আমরা বড় বিপদের মুখে আছি। অ্যাপ্রোচ সড়ক না থাকায় যানবাহনের কারণে প্রায়ই পথচারীদের পাশের খাদে পড়ে যেতে হয়।’
কোমরপুর বাসস্ট্যান্ডের চায়ের দোকানদার রাবেয়া বেগম বলেন, ‘বৃষ্টি হলে মানুষের সমস্যার শেষ থাকে না। খাদে জমে থাকা পানি গাড়ির চাকায় ছিটকে পড়ে পথচারীদের কাদা-পানিতে ভিজিয়ে দেয়।’
বাহিরদিয়া এলাকার বাসিন্দা ব্যবসায়ী আবুল হোসেন বলেন, ‘সড়কের ওই অংশে প্রতিদিনই ছোট বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। মানুষ আহত হচ্ছে, ইজিবাইক উল্টে যাচ্ছে। এ অবস্থার দ্রুত প্রতিকার দরকার।’
অম্বিকাপুর ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি চেয়ারম্যান আবু সাঈদ চৌধুরী বলেন, ‘মহাসড়কের ওই এক কিলোমিটার অংশের অবস্থা খুবই নাজুক। প্রতিনিয়ত ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন চলাচল করতে হয়, পথচারীদের চলতে হয়। গুরুত্বপূর্ণ এ মহাসড়কের ওই অংশটি দ্রুত সংস্কার করা জরুরি হলেও কর্তৃপক্ষের এ নিয়ে যেন কোনো মাথা ব্যথা নেই।’
এ প্রসঙ্গে ফরিদপুর সড়ক বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী আবুল হোসেন বলেন, ‘মহাসড়কে সংস্কার কাজ একবার হলে তিন বছরের মধ্যে আর করা যায় না। ওই অংশে সর্বশেষ সংস্কার কাজ হয়েছে আড়াই বছর আগে। ফলে ইচ্ছে থাকলেও আমরা সংস্কার কাজ করতে পারছি না।’
তিনি আরও বলেন, ‘সড়কের বাহিরদিয়া সেতু থেকে রাজবাড়ী রাস্তার মোড় এলাকা পর্যন্ত দুই কিলোমিটার সংস্কারের জন্য একটি প্রকল্প সড়ক বিভাগে জমা দেয়া হয়েছে। ওই প্রকল্পের মধ্যে সড়কের ওই অংশ কেটে সমান করে তার উপরে একটি প্রলেপ দেয়া হবে।’
এসজে/এমকেএইচ