শিক্ষা

শিক্ষামন্ত্রীর এক প্রশ্নে ‘নাজেহাল’ শিক্ষক নেতারা

দাবি-দাওয়ার ফিরিস্তি নিয়ে হাজির হওয়া শিক্ষক নেতাদেরকে পাল্টা প্রশ্নে রীতিমতো ‘নাজেহাল’ করেছেন নতুন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এই ঘটনা ঘটে।

সভার শুরুতে শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান ও সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়াসহ অন্য নেতারা জাতীয়করণসহ ১৩ দফা দাবি তুলে ধরেন। মন্ত্রী সব দাবি পূরণের আশ্বাস দিয়ে পাল্টা প্রশ্ন করেন, ‘আমরা সব দাবি মেনে নেব, কিন্তু বিনিময়ে আপনারা (শিক্ষকরা) জাতিকে কী দেবেন? ভাইসভার্সা... আমরা দেব, আপনারা কী দেবেন বলেন?’

মন্ত্রীর এই সুনির্দিষ্ট প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে নেতারা আবারও নিজেদের বঞ্চনার কথা এবং পুরোনো দাবিগুলো আওড়াতে থাকলে মন্ত্রী বিরক্ত হন। তিনি বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সমালোচনা করে বলেন, ‘আপনারা যা বলছেন, এসব দাবি-দাওয়া শুনতে শুনতে আমরা অভ্যস্ত। সবই জানা আছে আমার, অজানা কিছুই নেই।’

শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, ‘কিন্তু আমার একটা জানার বিষয় ছিল। সেটা আপনারা বলবেন, উত্তর দেবেন। দাবি ভূঁইয়া (শিক্ষক নেতা অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া, কুমিল্লা-২ আসনের সংসদ সদস্য), দাবি করছেন; সবই শুনছি। আমরাও বলেছি, আমাদের নেতা তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হলে লাল ফিতা, লাল পার্টি কামানের দাগ আর শিক্ষকদের ওপর চলবে না। আমরা এটা বিশ্বাস করি।

শিক্ষামন্ত্রীর এমন প্রশ্নের পর সবাই কথা বলতে শুরু করেন এবং আবারও কেউ দাবি তোলেন, কেউবা বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তিনি কীভাবে বঞ্চিত হয়েছেন; তার বর্ণনা দিতে শুরু করেন। এতে তিনি বিরক্ত হয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা শিক্ষক কিন্তু প্রশ্নই তো বোঝেন না। শিক্ষকরা যদি প্রশ্ন না বোঝে, তাহলে পড়াবেন কীভাবে?’

এরপর মতবিনিময় সভায় কিছুটা বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এলোমেলোভাবে সবাই কথা বলতে শুরু করেন। তখন মন্ত্রী বলেন, আমরা প্রথম একটা সভা করছি। আশা করেছিলাম মিটিংটা শৃঙ্খলার সঙ্গে শেষ হবে। কিন্তু তা হলো না। শিক্ষকদের সঙ্গে মিটিংয়ে যদি বিশৃঙ্খলা হয়, তা দুঃখজনক।

শিক্ষামন্ত্রীর এমন ক্ষোভের পরও বিশৃঙ্খলভাবে শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের নেতারা যে, যার মতো কথা বলতে থাকেন। একপর্যায়ে ঐক্যজোটের নেতাদের পদক্রম অনুযায়ী কথা বলতে অনুরোধ করেন শিক্ষামন্ত্রী। তখন একজন কয়েকজন প্রেসিডিয়াম সদস্য, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা কথা বলেন। কিন্তু শিক্ষামন্ত্রীর প্রশ্নের উত্তরের ধারেকাছেও কেউ যাননি।

বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন বলেন, ‘আমি বললাম আমরা সব দাবি মেনে নেবো, আপনারা কী দেবেন? আপনারা তা বলতেই পারলেন না। কেমন শিক্ষক আপনারা?’ মন্ত্রীর এমন ক্ষুব্ধ বক্তব্যে সবাই চুপ হয়ে যান। এরপর মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী কথা বলেন মতবিনিময় সভা শেষ করেন।

শিক্ষকদের দাবি-দাওয়া পূরণের আশ্বাস দিয়ে এহছানুল হক মিলন বলেন, বাজেট-সংক্রান্ত কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। নতুন বাজেটে অনেক বিষয় অন্তর্ভুক্ত না থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে সব দাবি বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। সব বিষয়ে সরকার আন্তরিক। শিক্ষকদের সব দাবি-দাওয়া প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করা হবে।

তিনি আরও বলেন, শিক্ষকদের ন্যায্য দাবি আদায়ে আর রাজপথে নামার প্রয়োজন হবে না। সরকার শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে এবং শিক্ষক-কর্মচারীদের যৌক্তিক দাবিগুলো পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

সভায় উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তিনি বলেন, শিক্ষকরা যে লিখিত দাবি তুলে ধরেছেন, সেগুলো গুরুত্বের সঙ্গে আমলে নেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন দাবির মধ্যে যেসব ‘স্ট্যান্ডিং ইস্যু’ রয়েছে, সেগুলো চিহ্নিত করে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আমরা হঠাৎ করে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে চাই না। আপনাদের সঙ্গে আলোচনা করেই দীর্ঘমেয়াদি সমাধানে যেতে চাই, যাতে পাঁচ বা সাত বছর পর একই দাবিতে আবার আন্দোলনে নামতে না হয়।

এছাড়া শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান ও কুমিল্লা-২ আসনের সংসদ সদস্য সেলিম ভূঁইয়া সভায় বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের দাবি জানান। একই সঙ্গে আরও ১২টি দাবি-দাওয়া তুলে ধরেন।

এএএইচ/কেএইচকে