দেশজুড়ে

পার্সেল ট্রেনে যাত্রী-মাদক বহন!

বগুড়ার আদমদীঘির সান্তাহার জংশন স্টেশন থেকে চলাচলরত পার্সেল ট্রেনে যাত্রী ও মাদক বহনের অভিযোগ উঠেছে। স্টেশন কর্মকর্তা ও ট্রেনের স্টাফদের যোগসাজশে চলছে এই অনৈতিক কর্মকাণ্ড। প্রতিদিনই চলাচল করা দুটি ট্রেনে নিয়ম ভেঙে তোলা হচ্ছে যাত্রী।

রোববার (৯ মে) দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, খুলনা থেকে চিলহাটিগামী একটি মালবাহী বিশেষ ট্রেন সান্তাহার জংশন স্টেশনে এসে থামে। ট্রেন আসার আগেই স্টেশনে হাতে ব্যাগ ও বেশ কিছু মালামাল নিয়ে যাত্রার জন্য অপেক্ষা করছেন ১০-১৫ জন।

ট্রেনটি প্ল্যাটফর্মের দিকে আসতে দেখে নড়ে-চড়ে বসেন তারা। এরপর ওই সব যাত্রীরা ট্রেনে ওঠার জন্য দরজার কাছে যায় এবং বেশ কয়েকজন ট্রেনে উঠেও পড়েন। এরই মধ্যে পার্সেল কেবিনে দায়িত্বরতরা ক্যামেরা দেখে অন্য যাত্রীদের ট্রেনে তোলা থেকে বিরত থাকেন।

ট্রেনটিতে উঠতে না পারা নওগাঁ থেকে আসা মমতা, উজ্জলসহ বেশ কয়েকজন যাত্রীর সঙ্গে কথা হয়। তারা জানান, পণ্যবাহী (পার্সেল) ট্রেনের এক কর্মকর্তার সঙ্গে মোবাইল ফোনে আগেই যোগাযোগ করেই তারা এসেছেন। এখন ট্রেনের কাছে যেতেই সাংবাদিকদের দেখে দায়িত্বরতরা বলছেন গাড়িতে কোনো লোকজন নেয়া যাবে না।

এর আগে ৫ মে রাত ৮টায় পঞ্চগড় থেকে ঢাকাগামী মালবাহী বিশেষ ট্রেন (পার্সেল স্পেশাল ৪ ডাউন) ট্রেনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মচারীদের সহযোগিতায় ট্রেনের পাওয়ার কারের ইলেক্ট্রিশিয়ান কেবিনে মাদক বহনের সময় রেলওয়ে ইলেক্ট্রিশিয়ান ও রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়।

এরা হলেন- রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার পটিয়া গ্রামের আব্দুর রহিমের ছেলে আলমগীর মিয়া (৩২) ও রেলওয়ে ইলেক্ট্রিশিয়ান ঠাকুরগাঁও রানীশংকৈল সন্ধাইর গ্রামের জালাল আহম্মেদের ছেলে আব্দুল করিম (৩৩)। এরা বিশেষ ব্যবস্থায় ২৮২ বোতল ফেনসিডিল প্যাকেট করে বহন করছিলেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, করোনাকালে জীবন ও জীবিকা চালু রাখতে এবং লকডাউনে কৃষক যাতে কৃষিপণ্য সহজে পরিবহন করতে পারে সেজন্য বাংলাদেশ রেলওয়ে বিশেষ পার্সেল ট্রেন চালু রেখেছে। বগুড়ার আদমদীঘির সান্তাহার জংশন স্টেশন হয়ে প্রতিদিন দুটি করে পণ্যবাহী ট্রেন চলাচল করছে। মালামাল ছাড়া এসব ট্রেনে যাত্রী বহন নিষিদ্ধ রয়েছে। কিন্তু ঈদ বাণিজ্যের নামে বর্তমানে কতিপয় রেলওয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশে যাত্রী ও মাদক পরিবহনের অভিযোগ উঠেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক রেল কর্মচারী জানান, অর্থের বিনিময়ে কতিপয় রেলওয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারী মিলে পার্সেল ট্রেনে নিরাপদে মাদক বহনের সুযোগ করে দিচ্ছে কারবারিদের। এটা বেশি করা হয় রাতের ট্রেনে। আর দিনে বেশি যায় যাত্রীরা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সান্তাহার স্টেশন মাস্টার হাবিবুর রহমান হাবিব যাত্রী পরিবহনের কথা স্বীকার করে বলেন, ‘প্রথমদিকে পার্সেল ট্রেনে কিছু যাত্রী ও রেলওয়ের স্টাফরা যেত। পরবর্তীতে কঠোর পদক্ষেপ নেয়ায় যাত্রী বা রেলওয়ের কোনো স্টাফদেরও নেয়া হচ্ছে না। আর মাদকের বিষয়টি রেলওয়ের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীরা দেখবেন। এটা নিয়ে কোনো মন্তব্য নেই।’

সান্তাহার রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত (ওসি) কর্মকর্তা মনজের আলী রেলে মাদক বহনের কথা স্বীকার করে বলেন, ‘দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আর কখনো যাতে মাদক বহন করতে না পারে সেজন্য চলাচলরত সব ট্রেনেই নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।’

এসজে/এমএস