লকডাউনে চলছে কঠোর বিধিনিষেধ। বন্ধ রয়েছে দূরপাল্লার যাত্রীবাহী যান চলাচল। তবুও ঈদ উদযাপন করতে নাড়ির টানে গ্রামের পথে ছুটছে মানুষ। ফলে তাদের ভোগান্তিতেও পড়তে হচ্ছে।
মঙ্গলবার (১১ মে) দুপুরে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এমনই চিত্র দেখা গেছে। আগে ঈদ বা বিভিন্ন ছুটিতে শিমরাইল মোড়ের বাস কাউন্টারে টিকিট কেটে বাড়ি ফিরতেন যাত্রীরা। কিন্তু লকডাউনের কারণে সেই সুযোগ না হওয়ায় যাত্রীদের বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে।
সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল এলাকায় বসবাস করেন লোকমান হোসেন। পরিবার নিয়ে ঈদ পালন করতে কুমিল্লার দাউদকান্দি যাবেন। কিন্তু দূরপাল্লার বাস বন্ধ থাকায় আড়াই ঘণ্টা চিটাগাং রোড এলাকায় পরিবারের সদস্য নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন।
তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‘বাসে দাউদকান্দি যেতে ৫০-৬০ টাকা ভাড়া লাগতো। এখন মাইক্রোতে জনপ্রতি ৭০০ টাকা ভাড়া চাচ্ছেন চালকরা। অতিরিক্ত ভাড়া হওয়ায় এখনো দাঁড়িয়ে আছি।’
একই এলাকায় বসবাস করেন রাফি আহমেদ। তিনি বেসরকারি একটি কোম্পানিতে চাকরি করেন। পরিবারের সঙ্গে ঈদ করতে ফেনী যাবেন। দেড়ঘণ্টা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সিদ্ধিরগঞ্জের সানারপাড় এলাকায় অপেক্ষা করছেন। কিন্তু অতিরিক্ত ভাড়া চাওয়ায় সড়কে দাঁড়িয়ে আছেন।
তিনি বললেন, ‘আমার পরিবারের সবাই গ্রামে থাকেন। আমি সবসময় গ্রামেই ঈদ করি। এবারও যাব। কিন্তু প্রাইভেটকার ও মাইক্রোবাস চালকরা অতিরিক্ত ভাড়া চাচ্ছেন।’শিউলি আক্তার গার্মেন্টসকর্মী। তিনি ঈদ পালন করতে গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম যাবেন। তিনি বেলা ১১টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সাইনবোর্ড মোড়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন।
শিউলি আক্তার জাগো নিউজকে বলেন, ‘যেখানে ভাড়া ২০০ টাকা, সেখানে মাইক্রোচালকরা চাচ্ছেন ১২০০ টাকা। অতিরিক্ত ভাড়া হওয়ায় এখনো গন্তব্যের পথে রওনা দিতে পারিনি।’
এদিকে সকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে দূরপাল্লার বাস চলতে দেখা গেছে। এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের ট্রাফিক সার্জেন্ট কুশল বলেন, সকাল থেকে আমরা দূরপাল্লার ১০টি বাস আটক করে শাস্তির আওতায় এনেছি। দূরপাল্লার বাস চলাচল রোধে পুলিশ তৎপর রয়েছে।
এস কে শাওন/এসআর/জিকেএস