ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় করোনা সংকটের মধ্যেও জেলার ১০০ শিল্পী-সংস্কৃতিসেবীর ঈদ আনন্দকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছেন জেলা প্রশাসক হায়াত-উদ-দৌলা খান। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ব্যবস্থাপনায় এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে প্রত্যেক শিল্পী-সংস্কৃতিসেবীর হাতে নগদ পাঁচ হাজার টাকা করে দেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (১৩ মে) দুপুরে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শুভেচ্ছা উপহার হিসেবে এই অর্থ তুলে দেয়া হয়। সব জটিলতা এড়িয়ে দ্রুত এই অর্থ তুলে দেয়ায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় শিল্পী-সংস্কৃতিসেবীদের মধ্যে ব্যাপক উচ্ছ্বাস বিরাজ করছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শিল্পকলা একাডেমির সাধারণ সম্পাদক এসআরএম উসমান গনি সজিবের সঞ্চালনায় একাডেমি মিলনায়তনে এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আল মামুন সরকার, সুর সম্রাট আলাউদ্দিন সঙ্গীতাঙ্গনের সম্পাদক মনজুরুল আলম, বাংলাদেশ আবৃত্তি সমন্বয় পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মনির হোসেন, অনুশীলন সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের সভাপতি আবদুন নূর, জেলা শিল্পকলা একাডেমির সিনিয়র প্রশিক্ষক পীযুষ কান্তি আচার্য, জেলা শিল্পকলা একাডেমির কার্যকরী সদস্য বাছির দুলাল প্রমুখ।
জেলা প্রশাসক হায়াত-উদ-দৌলা খান বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সমৃদ্ধ সংস্কৃতির রাজধানী এই ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হেফাজতের তাণ্ডবে সংস্কৃতির প্রধান প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই ঘটনায় শিল্পী-সংস্কৃতিসেবীদের অন্তর ক্ষত-বিক্ষত হয়েছে। ঈদ আনন্দকে সামনে রেখে সকল অপশক্তির বিরুদ্ধে শিল্পী-সংস্কৃতিসেবীদের জাগ্রত করতেই তাদের পাশে দাঁড়ানোর প্রয়াস। যারা বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালকে ক্ষত-বিক্ষত করে, সংস্কৃতির প্রতিষ্ঠানগুলোতে আগুন দেয় তারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাস করে না। তাদের বিরুদ্ধে সংস্কৃতির জাগরণ অত্যন্ত জরুরি।
জেলা শিল্পকলা একাডেমির সাধারণ সম্পাদক এস আর এম উসমান গনি সজিব বলেন, ঈদের আগের দিন শিল্পীদেরকে শুভেচ্ছা উপহার প্রদান, ঈদ আনন্দকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। জেলা প্রশাসক অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করে শিল্পীদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। আজ শিল্পীরাও তাদের আনন্দ প্রকাশ করেছে।
প্রবীণ নাট্য ও যাদুশিল্পী যাদুকর সেলিম বলেন, করোনার কারণে বেকার হয়ে আছি। আজকে জেলা প্রশাসকের দেয়া শুভেচ্ছা উপহারকে অনেক সম্মানজনক মনে করছি। তিনি শিল্পীদের জন্য এ উপহারের ব্যবস্থা করে যথার্থ অভিভাবকের ভূমিকা পালন করেছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
আবুল হাসনাত মো. রাফি/এআরএ/জিকেএস