বিশ্বজুড়ে মুসলমানদের সবচেয়ে বড় উৎসবের দিন আজ। এ দিনটিতে শিশুদের আনন্দই যেন সবচেয়ে বেশি। নতুন জামা-জুতা পরে শিশুদের বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস দিনটির প্রধান উপজীব্য। তবে বিশেষ এই দিনটির আনন্দ থেকেও বঞ্চিত পটুয়াখালীর বেদেপল্লীর শিশুরা। ঈদের দিনটিও তারা পার করছে আর দশটি সাধারণ দিনের মতোই।
পটুয়াখালী সেতুর নিচে বসবাসরত ৩০টি পরিবারের বেদেপল্লীতে আজকের দিনটিও বিশেষ কোনো খুশি বয়ে আনতে পারেনি।
পটুয়াখালীতে চলছে সরকার আরোপিত বিধিনিষেধ। এর মধ্যে কাঁধে লম্বা ব্যাগ ঝুলিয়ে বেদেরা চুড়ি-ফিতা বিক্রি করতে পারেন না। ইউটিউবের যুগে মানুষ আর আগের মতো জড়ো হয়ে সাপ খেলাও দেখে না। আধুনিক চিকিৎসার যুগে বাত কিংবা কোমর ব্যথা চিকিৎসায় এখন আর কেউ তাদের ডাকে না। তাই তাদের আর্থিক অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয়। একরকম মানবেতর দিন কাটাচ্ছে তারা।
এদিন বেদেপল্লীতে গিয়ে দেখা যায়, ‘বেশিরভাগ শিশুই ঘুরছে খালি গায়ে। যারাও বা কাপড় পরেছে তাও ছেঁড়া ও পুরনো। কোনো কোনো ঝুপড়িতে বাবা-মায়ের কোলে পরম মমতায় ঘুমাচ্ছে শিশুরা। কোনো কোনো বাসিন্দা আবার যথারীতি সংসারের কাজে ব্যস্ত। আজ যে একটি বিশেষ দিন বেদেপল্লীতে ঢুকে তা বোঝার উপায় নেই।’
ঈদ আনন্দ তাদের কাছে অলীক বিলাসিতার আরেক নাম।
সালমা বেগম নামে বেদেপল্লীর এক বাসিন্দা জাগো নিউজকে বলেন, ‘এখন তো রাস্তার মোড়ে মোড়ে বড় বড় সব দোকানপাট। তাই চুড়ি-ফিতা বিক্রি অনেক কমে গেছে। করোনাভাইরাসের কারণে লকডাউন হওয়ায় এক জায়গায় মানুষজন জড়ো হতে পারে না তাই সাপ খেলাও দেখাতে পারি না। একবেলা খাবার জুটলে অন্য বেলা জোটে না। এবার ঈদে ছেলে মেয়েদের জন্য কিছুই কিনে দিতে পারিনি।’
ইমন নামে এক শিশু জাগো নিউজের এ প্রতিবেদককে বলে, ‘এবার ঈদে আমাগো বাপ-মায় কিছু কিন্না দিতে পারে নাই, আপনি কিছু দিতে পারেন?’
আরেক শিশুর ভাষায়, ‘কতো পোলাপাইন নতুন জামা প্যান্ট, জুতা, চশমা ও ঘড়ি পইরা ঘোরে। কিন্তু আমাগো কিছুই নাই। হেইর লাইগা আমাগো ঈদও নাই।’
বেদেপল্লীর বাসিন্দা মো. তাজু সর্দার জাগো নিউজকে বলেন, ‘এখানে আমরা প্রায় ৩০টি পরিবার আছি। প্রতিটি পরিবারে ৬-৭ জন সদস্য রয়েছে। করোনার কারণে কাজ নাই। সবারই খারাপ অবস্থা। কেউ সাহায্য-সহযোগিতাও করে না। অনেক কষ্টে দিন কাটাচ্ছি। ২৫ বছর ধরে আমরা পটুয়াখালীতে আছি।’
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে জেলা প্রশাসক মতিউল ইসলাম চৌধুরী জাগো নিউজকে বলেন, ‘পর্যায়ক্রমে সবাইকেই সরকারি সহায়তা দেয়া হচ্ছে। কেউ যদি সহায়তা না পায় তারা যেন নিকটস্থ জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগ করে।’
রাজিব বসু/এসএস/এমকেএইচ