দেশজুড়ে

হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্স আছে, চালক নেই

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) দ্বিতীয় ঢেউয়ে সংক্রমণ ও মৃত্যু বেড়ে যাওয়ায় চরম উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় দিন যাচ্ছে দেশের মানুষের। অসুস্থ হলে যথাযথ স্বাস্থ্যসেবা পাওয়া নিয়ে বেশিরভাগ মানুষের মধ্যে দুশ্চিন্তা আছে। এই দুঃসময়ে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীর ৫০ শয্যা বিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অ্যাম্বুলেন্স থাকলেও নেই তা চালানোর চালক। ফলে হাসপাতালটিতে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনদের পোহাতে হচ্ছে চরম দুর্ভোগ।

ফুলবাড়ীর বাসিন্দারা বলছেন, অসুস্থ রোগীদের উপজেলার ৫০ শয্যা বিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দ্রুত ভর্তি করানোর প্রয়োজন পড়লেও অ্যাম্বুলেন্স পাওয়া যায় না। কারণ কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে বলা হয়, অ্যাম্বুলেন্সের চালক নেই। এজন্য স্বজনরা রোগীদের উন্নত চিকিৎসার জন্য বাধ্য হয়ে বাড়তি ভাড়ায় মাইক্রোবাস, প্রাইভেটকার ও বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স ডাকেন এবং এসবের মাধ্যমে কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতাল, রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিক হাসপাতালে নিয়ে যান।

কথা বলে জানা গেছে, ৫০ শয্যা বিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চালক সংকটের প্রায় চার মাস হতে চলেছে। তবু কর্তৃপক্ষ অসুস্থ রোগীদের অ্যাম্বুলেন্সে এনে চিকিৎসা সেবা দিতে পারছে না। এজন্য উপজেলার হাজারো মানুষ চরম-বিপাকে পড়েছেন।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ফুলবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবু হেনা মোস্তফা কামাল জাগো নিউজকে বলেন, ফুলবাড়ী হাসপাতালে যোগদান করার পর থেকেই অ্যাম্বুলেন্স চালকের বিষয়টি গুরুত্বসহকারে মৌখিক ও লিখিতভাবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

তবে এই হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্স চালক না থাকার ব্যাপারটি আগে কেউ জানায়নি বলে দাবি করেন ফুলবাড়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সুমন দাস। তিনি বলেন, এ ব্যাপারে এখন পর্যন্ত কেউ জানায়নি। বিষয়টি জানতে পারলাম। গুরুত্বসহকারে খোঁজ নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাচ্ছি।

এ ব্যাপারে কুড়িগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. মো. হাবিবুর রহমান জানান, বিষয়টি নিয়ে একটি ফৌজদারি মামলা চলমান রয়েছে। আমরা চেষ্টা চালাচ্ছি বিষয়টির সুরাহা করার জন্য।

মাসুদ রানা/এইচএ/এমএস