দেশজুড়ে

রূপগঞ্জে নির্দেশনা অমান্য করে ঈদ আনন্দমেলা

করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউয়ের সংক্রমণ ব্যাপকহারে বৃদ্ধি পাওয়ায় সারা দেশে চলছে লকডাউন। এরই মাঝে সবধরনের সভা-সমাবেশ, অনুষ্ঠান নিষিদ্ধ করেছে সরকার।

সরকারি নির্দেশনাকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার বরপা বালুর মাঠ এলাকায় তারাব পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর জাকারিয়া মোল্লা তার জমিতে মেলার আয়োজন করেছেন। ঈদ উপলক্ষে মেলাটি গত ১৬ মে থেকে শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার তারাব পৌরসভার বরপা এলাকার বালুর মাঠটি স্থানীয় কাউন্সিলর জাকারিয়ার মোল্লার। তিনি তার জমিতে ঈদ-উল ফিতর উপলক্ষে ১৬ মে থেকে ১৫ দিনব্যাপী মেলার আয়োজন করেন। মেলাতে আসা দর্শনার্থীদের মাঝে স্বাস্থ্যবিধির কোনো বালাই ছিল না।

এছাড়া কাউকে মুখে মাস্ক পরতেও দেখা যায়নি। স্থানীয় প্রশাসনকে ম্যানেজ ও ক্ষমতাসীন দলের প্রভাব খাটিয়ে কাউন্সিলর জাকারিয়া ঈদ মেলার মেলার আয়োজন করেন। কাউন্সিলর জাকারিয়া মোল্লাকে মেলার দোকানীদের দৈনিক ৪ হাজার টাকা মেলার জন্য ভাড়া প্রদান করতে হয়। বিকেল হলেই মেলাতে প্রতিদিন হাজার দর্শনার্থী ভিড় জমায়।

সরেজমিনে দেখা গেছে, মেলার ভেতরের প্রবেশের প্রধান ফটকের সামনে হলুদ রংয়ের কাপড়ে লাল-কালো রংয়ে লেখা মেলা! মেলা! মেলা! ঈদ আনন্দ মেলা। গেটের সামনেই জিলাপী ও মুড়ি-মুড়কির দোকান। আর একটু ভেতরে গেলেই দেখা মেলে শিশুদের ১৪-২০টি খেলনার দোকান।

এছাড়া বসানো হয়েছে শিশুদের বিনোদনের জন্য বিভিন্ন প্রকার রাইড। অভিভাবকরা তাদের শিশুদের আনন্দ দিতে নিয়ে আসছে মেলাতে। অভিভাবক ও শিশুদের কারো মাঝে কোনো প্রকার সচেতনতা লক্ষ্য করা যায়নি। মেলায় আসা বেশিরভাগ মানুষকে মুখে মাস্ক পরতে দেখা যায়নি। সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে প্রশাসনের নাকের ডগায় এমন মেলার আয়োজন দুঃখজনক বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ বিষয়ে কাউন্সিলর জাকারিয়া মোল্লা বলেন, এ ব্যাপারে আমি ফোনে কোনো কথা বলতে রাজী নয়। আপনি আমার অফিসে আসলে কথা বলবো।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) নূসরাত জাহান বলেন, কাউন্সিলরের উদ্যোগে মেলা বসানোর বিষয়ে আমার জানা নেই। এখনই সরেজমিনে গিয়ে মেলা বন্ধ করে দিচ্ছি।

মীর আব্দুল আলীম/এমআরএম/জেআইএম