নারীদের স্বাস্থ্যের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ হচ্ছে মাসিক চক্র এবং হরমোনের সঠিক সমতা। তবে অনেকে এখনও এই বিষয়গুলোকে কম গুরুত্ব দিয়ে থাকেন, যার কারণে সাধারণ সমস্যা সময়মতো শনাক্ত ও চিকিৎসা করা সম্ভব হয় না। এই বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিভাগের চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. রেজাউল করিম কাজল।
প্রতি নারীর মাসিক চক্র সাধারণত ২১ থেকে ৩৫ দিনের মধ্যে পরিবর্তিত হতে পারে। তবে চক্রে দীর্ঘ বা সংক্ষিপ্ত সময়, খুব বেশি বা খুব কম রক্তপাত, হঠাৎ ব্যথা বা অনিয়মিত মাসিক ইঙ্গিত দেয় যে কিছু সমস্যা রয়েছে। ডা. কাজল জানান, ‘মাসিকের চক্রের নিয়মিততা শুধু প্রজনন স্বাস্থ্য নয়, সামগ্রিক শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যেরও দিক নির্দেশ করে।’
নারীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি যেসব সমস্যা দেখা যায়-
ডিসমেনোরিয়া (মাসিকের ব্যথা): অনেক নারীর মাসিকের সময় পেটব্যথা সাধারণ, কিন্তু যদি ব্যথা খুব তীব্র হয় বা দৈনন্দিন কাজ বাধাগ্রস্ত করে, তার জন্য চিকিৎসা প্রয়োজন।পলিমেনোরিয়া ও ওলিগোমেনোরিয়া: খুব বেশি বা খুব কম রক্তপাত। এগুলো হরমোনের অস্বাভাবিকতার ইঙ্গিত হতে পারে।নির্ধারিত সময়ের চেয়ে বিলম্বিত বা অনিয়মিত মাসিক: প্রজনন হরমোনের ভারসাম্যহীনতার কারণে হতে পারে।প্রি-মেনস্ট্রুয়াল সিনড্রোম: চুলকানি, উদ্দীপনা, মেজাজ পরিবর্তন, মাথা ঘোরা ইত্যাদি লক্ষণ।
হরমোন শুধুমাত্র মাসিক নিয়ন্ত্রণে নয়, বরং শরীরের অন্যান্য অনেক প্রক্রিয়াকেও প্রভাবিত করে। হরমোনের ভারসাম্যহীনতা হলে দেখা দিতে পারে-
হঠাৎ ওজন বৃদ্ধি বা হ্রাস ত্বক ও চুলের সমস্যার বৃদ্ধি মানসিক অস্থিরতা বা ডিপ্রেশন প্রজনন সমস্যার ঝুঁকিডা. কাজল উল্লেখ করেন, হরমোনের সমস্যা অনেক সময় উপসর্গমুখর হয় না। তাই নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আরও পড়ুন: নিঃসন্তান দম্পতিদের চিকিৎসায় আইভিএফ, যা জানা জরুরি বিয়ের আগে যাদের জন্মনিয়ন্ত্রণ পিল খেতে হয় বিয়ের অনেক বছর পার হলেও সন্তান হচ্ছে না? সতর্কতা ও সমাধান নিয়মিত চেকআপ: প্রতি বছর অন্তত একবার প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞের সঙ্গে দেখা করা। স্বাস্থ্যকর জীবনধারা: সঠিক খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত ঘুম, ব্যায়াম এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ। সমস্যা চিহ্নিত করা: যদি মাসিক অত্যধিক ব্যথার সঙ্গে অনিয়মিত হয়, বা হরমোনজনিত উপসর্গ দেখা দেয়, অবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া। সচেতনতা বৃদ্ধি: পরিবার, বন্ধু বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে মাসিক ও হরমোন বিষয়ক সচেতনতা জরুরি।সমাজিক ও শিক্ষামূলক গুরুত্ব নিয়ে ডা. কাজল বলেন, নারীদের স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতনতা শুধু ব্যক্তিগত নয়, সামাজিক উন্নয়নেরও অংশ। যখন একজন নারী তার মাসিক ও হরমোনের স্বাভাবিকতা বুঝতে সক্ষম হয়, তখন সে শিক্ষায়, কর্মজীবনে এবং ব্যক্তিগত জীবনে আরও সুরক্ষিত থাকে।
তিনি আরও বলেন, মাসিক ও হরমোন সম্পর্কিত সমস্যা অনেক সময় সাধারণ মনে হলেও উপেক্ষা করলে তা দীর্ঘমেয়াদে শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যকে প্রভাবিত করতে পারে। সময়মতো সচেতনতা এবং চিকিৎসা গ্রহণ মহিলাদের সুস্থ জীবনযাপনের মূল চাবিকাঠি।
জেএস/