দেশজুড়ে

দাম কম থাকায় ঘরেই পেঁয়াজের মজুত করছেন চাষিরা

ফরিদপুরে পেঁয়াজের বাম্পার ফলন হয়েছে। তবে ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না চাষিরা। তাই দাম বাড়ার আশায় ঘরেই পেঁয়াজ মজুত রাখছেন তারা ।

এদিকে বর্তমানে খুচরা বাজারে পেঁয়াজের দাম হঠাৎ করে বৃদ্ধি পেয়েছে। ফরিদপুরে বিভিন্ন হাটবাজারে কেজি প্রতি দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৪৫-৫৫ টাকা দরে। তবে অধিকাংশ খুচরা দোকানদার ৫০ টাকা দরে পেঁয়াজ বেচা-কেনা করছেন।

জানা যায়, দেশে সবচেয়ে বেশি পেঁয়াজ আবাদ হয়ে থাকে ফরিদপুরের সালথা উপজেলায়। এ বছর সালথায় ১২ হাজার ১৫ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজের আবাদ হয়। রমজানের আগেই পেঁয়াজ উত্তোলন কাজ শেষ হয়। এবার প্রতি হেক্টর জমিতে ১৩-১৫ মেট্রিক টন পেঁয়াজ উৎপাদিত হয়েছে।

পেঁয়াজ উত্তোলণকালীন সময়ে প্রতি মণের বাজারমূল্য ছিল ৮০০-১০০০ টাকা। বর্তমানে প্রতি মণ পেঁয়াজের মূল্য ১৩০০ টাকা।

নিজস্ব জমিতে প্রতি মণ পেঁয়াজ উৎপাদনে খরচ হয় ১২০০-১৩০০ টাকা। আর বর্গা চাষিদের প্রতি মণ পেঁয়াজ উৎপাদন খরচ হয়েছে ১৯০০-২০০০ টাকা।

সালথা উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিস জানায়, এ বছর সালথায় পেঁয়াজের বাম্পার ফলন হয়েছে। বৃষ্টিপাত না হওয়ায় চাষিদের পেঁয়াজ ঘরে তুলতে কোনো অসুবিধা হয়নি। ফলে এলাকার ঘরে ঘরে এখন পেঁয়াজের মজুত রয়েছে।

সালথা বাজারের ব্যবসায়ীরা জানান, ১৩০০ টাকা করে প্রতি মণ পেঁয়াজ কেনা হয়েছে। দাম একটু কম থাকায় বাজারে পেঁয়াজ আমদানি হচ্ছে কম।

ব্যবসায়ীরা আরও জানান, এখনো কৃষকদের ঘরে প্রচুর পেঁয়াজ আছে। দাম একটু বাড়লে চাষিদের সুবিধা হতো।

সালথা বাজারে পেঁয়াজ বিক্রি করতে আসা দুই পেঁয়াজ চাষি বলেন, বর্তমানে পেঁয়াজের যে দাম তাতে চাষিরা লোকসানে আছেন। তাই চাষিরা বাজারে পেঁয়াজ বিক্রি করতে আনছেন না।

এছাড়াও ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি না করার দাবিও জানান চাষিরা।

অপরদিকে খুচরা বাজারে হঠাৎ দাম বাড়ায় ব্যবসায়ীদের দাবি, পাইকারি বাজারে দাম বাড়ায় খুচরা বাজারেও দাম বেড়েছে।

তবে পাইকারি বাজারে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। ফরিদপুরের কানাইপুরে হাটে দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৩৪-৩৮ টাকা দরে।

এছাড়া ফরিদপুরের মধুখালী, বোয়ালমারী, সাতৈর, বড়গাঁ, সহস্রাইল, সালথা, ভাঙ্গাসহ বেশ কয়েকটি বাজারে গিয়ে দেখা গেছে, মণ প্রতি পাইকারি বাজারে পেঁয়াজের দর বেড়ে গেছে। গত কয়েক সপ্তাহের তুলনায় ৩০০-৪০০ টাকা পর্যন্ত দর বেড়েছে। এতে প্রভাব পড়ছে খুচরা বাজারে।

ফরিদপুর শহরের হাজী শরিয়াতুল্লা বাজারের ক্রেতারা জানান, রমজানে পেঁয়াজ ২৫-২৮ টাকা কেজিতে কিনেছেন তারা। সেটি এখন বিক্রি হচ্ছে ৪৫ টাকা দরে।

হাজী শরীয়াতুল্লা বাজারের পেঁয়াজ ব্যবসায়ী আমিনুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে পেঁয়াজ পাইকারি দরে মণ প্রতি কিনতে হচ্ছে ১৫০০-১৬০০ টাকায়। যা রমজানে ছিল ১১০০ টাকা মণ।

ফরিদপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ ড. হয়রত আলী জানান, পেঁয়াজ উৎপাদনের দিক থেকে দেশের দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ফরিদপুর। চলতি মৌসুমে এ জেলায় ৪০ হাজার ৯৭ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ উৎপাদিত হয়েছে।

সরকারি হিসাব অনুযায়ী, পাঁচ লাখ ৮৯ হাজার ১৮৫ মেট্রিক টন পেঁয়াজ উৎপাদিত হয়েছে। গত মৌসুমে জেলায় পেঁয়াজের আবাদ হয়েছিল ৩৭ হাজার ৬৭৮ হেক্টর। এর বিপরীতে উৎপাদন হয়েছিল পাঁচ লাখ পাঁচ হাজার মেট্রিক টন।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে পেঁয়াজের যে দাম রয়েছে বাজারে সেটি স্থিতিশীল থাকলে চাষিরা লাভবান হবেন। তবে এরচেয়ে বেড়ে গেলে ক্রেতারা সমস্যায় পড়বেন।

ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক অতুল সরকার বলেন, হঠাৎ দাম বাড়ার বিষয়টি নজরে এসেছে। দ্রুতই ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলবো। প্রয়োজনে বিভিন্ন হাটবাজারে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে বাজার দর নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে।

এসএমএম/জিকেএস