দেশজুড়ে

নওগাঁয় বেড়েছে চালের দাম

ধানের মৌসুমেও নওগাঁয় বেড়েছে চালের দাম। গত ১০ দিনের ব্যবধানে প্রতি কেজি চাল ৪-৫ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। পাইকারি বাজারে চালের দাম বেড়ে যাওয়ায় খুচরা বাজারেও এর প্রভাব পড়েছে। ফলে বিপাকে পড়েছেন সাধারণ খেটে খাওয়া নিম্ন আয়ের মানুষ।

জেলার মহাদেবপুর উপজেলার চকগৌরি, স্বরস্বতীপুর ও মহিষবাথায় হাট ঘুরে জানা যায়, মণপ্রতি হাইব্রিড ৯০০-৯২০ টাকা, জিরাশাইল ১০০০-১০৭০ টাকা, কাটারি ১১০০-১১২০ টাকা, মোয়াজ্জেম ৯৪০-৯৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত ১০-১৫ দিনের ব্যবধানে প্রকারভেদে প্রতিমণ ধান ৭০-১৫০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে।

মান্দার মহানগর গ্রামের কৃষক রুবেল হোসেন বলেন, বোরো মৌসুমে ২২ বিঘা জমিতে আবাদ করেছিলাম। এক বিঘাতে ৫৬ ও এক বিঘাতে ৫৭ জাতের ধানের চাষ করা হয়েছিল। বাকিগুলোতে জিরাশাইল। যেখানে বিঘাপ্রতি ফলন হয়েছে প্রায় ২৫ মণ হারে। গত ১৫দিন আগে জিরাশাইল এক হাজার ২০ টাকা মণ দরে প্রায় ২৫০ মণ ধান বিক্রি করেছি। বর্তমানে বাজারে প্রতি মণে ১০০ টাকা দাম বৃদ্ধি পেয়েছে।

নওগাঁ পৌর খুচরা বাজারের অখিল চন্দ্র নামের এক ব্যবসায়ী বলেন, গত ১০ দিনের ব্যবধানে প্রকারভেদে প্রতি কেজি চালের দাম ৪-৫ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে জিরাশাইল প্রতি কেজি ৫০-৫২ টাকা, কাটারি ৫৫ টাকা ও খাটোদশ ৪৬ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া ৫০ কেজি ওজনের প্রতি বস্তার দাম বেড়েছে ১০০-১৫০ টাকা।

তিনি বলেন, ধানের ভরা মৌসুমে চালের দাম বেড়েছে। বিগত বছরগুলোতে কখনোই এমন হয়নি। ব্যবসায়ীদের বেশি দামে ধান কিনে চাল উৎপাদন করতে খরচও বেশি পড়ছে। একারণে বাজারে চালের দাম বেড়েছে।

নওগাঁ চালকল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ হোসেন চকদার বলেন, বাজারে চালের দাম বাড়ার একমাত্র কারণ ধানের দাম বৃদ্ধি। বিগত বছরে কৃষকরা ধান ওঠানোর আগেই কাটা মাড়াই করে হাটে বিক্রি করত। কিন্তু এ বছর সামান্য পরিমাণ ধান হাটে বিক্রি করে বাকিটা ঘরে মজুদ করে রেখেছেন। হাট-বাজারে ধানের আমদানি কম হওয়ায় দাম বৃদ্ধি পেয়েছে।

কৃষি বিভাগের তথ্য মতে, জেলায় এবার এক লাখ ৮৭ হাজার ৭৬০ হেক্টর জমিতে ইরি-বোরো আবাদ করা হয়েছে।

আব্বাস আলী/আরএইচ/এএসএম