দেশজুড়ে

চলেই গেলেন কিশোরগঞ্জের ‘খেলু পাগলা’

‘মাছ খাই না, মাংস খাই না, ধর্মে দিসি মন/তুলশি মালা গলায় দিয়া/যাব বৃন্দাবন/তোরে লইয়া বৈরাগী হইয়া/ যামুগা লো সই—গানের জন্য বিখ্যাত কিশোরগঞ্জের প্রিয়মুখ ‘খেলু পাগলা’ অবশেষে চলেই গেলেন।

শুক্রবার (৪ জুন) সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে কারারক্ষীদের পাহারায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।

কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগারের সুপারিনটেন্ডেন্ট মো. বজলুর রশিদ তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, কিশোরগঞ্জ কারাগারের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও হাজতিদের প্রিয়মুখ খেলু পাগলা শুক্রবার সকালে মারা গেছেন। তিনি দুটি মাদক মামলায় দীর্ঘদিন ধরে কিশোরগঞ্জ কারাগারে অন্তরীণ ছিলেন।

মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬১ বছর। তিনি স্ত্রী, দুই মেয়ে ও এক ছেলেসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

দীর্ঘদিন ধরে ডায়াবেটিসসহ অণ্ডকোষজনিত গুরুতর জটিলতায় ভুগছিলেন খেলু পাগলা। তাকে শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কারারক্ষীদের প্রহরায় চিকিৎসা চলছিল। তবে অবস্থার উন্নতি হচ্ছিল না। অবস্থার অবনতি হলে শেষ পর্যন্ত তাকে ঢাকার কেরানীগঞ্জ কারাগারে পাঠিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করিয়ে চিকিৎসা প্রদানের অনুরোধ করা হয়। কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার সাধের জঙ্গল গ্রামের অধিবাসী খেলু পাগলা ছিলেন একজন পরিচিত বাউলশিল্পী। তিনি মাদক মামলায় তিন বছরের কারাদণ্ডাদেশ প্রাপ্ত হয়ে কিশোরগঞ্জ কারাগারে প্রায় আড়াই বছর ধরে বন্দি জীবনযাপন করছিলেন।

কারাবন্দিদের গানে গানে মাতিয়ে রাখতেন এই বাউলশিল্পী। তার মৃত্যুর খবরে কিশোরগঞ্জ ও করিমগঞ্জের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

নূর মোহাম্মদ/এসআর/জিকেএস