ভারি বর্ষণের ফলে কক্সবাজার শহরের পাহাড়ি এলাকাগুলোতে বিরাজ করছে পাহাড়ধসের আতঙ্ক। প্রাণহানি রোধে ঝুঁকিতে বসবাসকারীদের নিরাপদে সরে যেতে মাইকিং করছে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন। তাদের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে একাধিক আশ্রয়কেন্দ্র।
জেলায় গত শুক্রবার (৪ জুন) রাত থেকে থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে। শনিবার (৫ জুন) রাত ও রোববার (৬ জুন) ভোর থেকে এ বৃষ্টিপাত আরও বেড়েছে। এতে প্লাবিত হচ্ছে শহর ও গ্রামের নিম্নাঞ্চল।
টানা বর্ষণে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ঝুপড়ি ও গ্রামের অনেক কাঁচা বাড়িঘর বাতাসের ঝাপটায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন হতদরিদ্র ও পানি নিমজ্জিত এলাকার লোকজন।
স্থানীয়রা জানান, গত কয়েকদিনের ভারি বর্ষণ ও ঝড়ো বাতাসে জেলা শহরসহ বিভিন্ন উপজেলায় পাহাড়ধসের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এ আশঙ্কায় পাহাড়ের পাদদেশ বা চূড়ায় ঝুঁকিপূর্ণ আবাস গড়া লোকজনদের নিরাপদ আশ্রয়স্থলে সরে যেতে নির্দেশ দিয়ে মাইকিং করা হচ্ছে। স্বেচ্ছায় না সরলে অভিযানের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে হুঁশিয়ারিও দেয়া হচ্ছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কক্সবাজার শহরের মোহাজের পাড়া, বৈদ্যঘোনা, লাইটহাউজ পাড়া, সমিতিপাড়া, ঘোনারপাড়া, পাহাড়তলী, বর্মাইয়া পাড়া, এবিসি ঘোনা, টেকনাইফ্ফা পাহাড়, সিটি কলেজ এলাকা, নতুন জেলখানা, ডিগকুল বিজিবি ক্যাম্প, মহুরিপাড়া, কক্সবাজার সদর উপজেলার ঈদগাঁও, খুরুশকুল, পিএমখালী, ভারুয়াখালী, রামুর খুনিয়াপালং, দক্ষিণ মিঠাছড়ি, জোয়ারিয়ানালা, ঈদগড়, গর্জনিয়া, উখিয়ার রাজাপালং, হলদিয়াপালং, পালংখালী, টেকনাফের হোয়াইক্যং, বাহারছড়া, হ্নীলা, টেকনাফ সদর ইউনিয়ন, চকরিয়ার খুটাখালী, বরইতলী, ডুলাহাজারা, হারবাং, পেকুয়ার বারবাকিয়া, টৈটং, পহঁরচাদা, মহেশখালীর কালারমারছরা, হোয়ানক, ছোটমহেশখালী, শামলাপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় পাহাড় কেটে বসবাস করছে সহস্রাধিক পরিবার।
কক্সবাজার জেলা ত্রাণ ও পুর্নবাসন কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘জেলায় ৫২টি স্পটে ৮৯৮ পরিবার ঝুঁকিতে রয়েছে। তাদের জন্য পৌরসভায় ঝুঁকিপূর্ণ ছয়টি ওয়ার্ডে সাতটি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে।’
অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) মো. আবু সুফিয়ান বলেন, ‘কক্সবাজার পৌরসভার অভ্যন্তরে ছয়টি ওয়ার্ডে সবচেয়ে বেশি মানুষ ঝুঁকিতে রয়েছে। তাদের সরিয়ে আনাটা একটি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা। তারপরও ঝুঁকি এড়াতে কর্মপরিকল্পনা নিয়েছে জেলা প্রশাসন।’
‘রোববার দুপুরে এ সংক্রান্ত একটি জরুরি মিটিং হয়েছে। মিটিং-এ সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের কাউন্সিলরদের প্রধান করে একটি উপকমিটিও গঠন করা হয়। তালিকা প্রণয়নে কাজ করা এনজিও সংস্থাগুলোকে সহযোগিতা করতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।’
এদিকে অতিবর্ষণে কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড়ধসে নারীসহ দুজনের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার টেকনাফের চাকমারকুল ও উখিয়ার বালুখালী ময়নারঘোনা ক্যাম্পে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন, টেকনাফের চাকমারকুল রোহিঙ্গা ক্যাম্পের শাকের আহমেদের স্ত্রী নুর হাসিনা (২০) ও উখিয়ার বালুখালী ময়নারঘোনা ক্যাম্পের মৃত অছিউর রহমানের ছেলে রহিম উল্লাহ (৩৫)। এ ঘটনার পর থেকে পাহাড়ে ঝুঁকিতে বসবাসকারী লোকজনের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশীদ বলেন, ‘ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকা ব্যক্তিদের তালিকা সম্পন্ন হলে তাদেরকে সেখান থেকে সরানো হবে। কেউ না যেতে চাইলে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থাও নেয়া হবে। এদিকে যেকোনো প্রাকৃতিক দূর্যোগ মোকাবিলায় ফায়ার সার্ভিস, রেড ক্রিসেন্টসহ নানা সংস্থাকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। প্রয়োজনে সহযোগিতা নেয়া হবে সেনাবাহিনীরও।’
সায়ীদ আলমগীর/এসএমএম/এমকেএইচ