দেশজুড়ে

তাঁবুতে ১৫ বছর থাকা সেই আছিয়ার পাশে জেলা প্রশাসক

অবশেষে হাইমচরের তাঁবুতে ১৫ বছর কাটানো অসহায় আছিয়া বেগমের পাশে দাঁড়িয়েছে চাঁদপুরের জেলা প্রশাসন। সোমবার (৭ জুন) সকালে তাকে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করেন জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশ। এ সময় তাকে নগদ ৬ হাজার টাকা, ঘর করার জন্য দুই বান টিন ও অন্যানা সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা করেন।

এর আগে গতকাল রোববার (৬ জুন) তাকে নিয়ে জাগো নিউজে ‘তাঁবুতেই ১৫ বছর’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এছাড়া স্থানীয় একটি গণমাধ্যমে তাকে নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল। তারই প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশ তাকে এ সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন।

এ সময় জেলা প্রশাসক সাংবাদিকদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, আপনাদের এমন ভালো প্রতিবেদনের কারণে আমরা অসহায় দরিদ্র মানুষ সম্পর্কে জানতে পারি। আপনাদের বস্তুনিষ্ঠ সংবাদের কারণে আমরা প্রকৃত অসহায়ের কাছে পৌঁছতে পারি। সরকারও চায় এসব অসহায়ের পাশে দাঁড়াতে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীও ঘোষণা দিয়েছেন কোনো মানুষ গৃহহীন থাকবে না। এক্ষেত্রে সাংবাদিকরা বিরাট ভূমিকা রাখছেন। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও তাদের সহায়তা দিতে পারি। আপনাদের নিজের পকেটের টাকা খরচ করে এসব গরিবের পাশে দাঁড়ানো দেখে সত্যিই ভালো লাগে। আর এসব গরিবের পাশে দাঁড়ানো সাংবাদিকদের জন্য আল্লাহর রহমত রয়েছে।

সহায়তা পেয়ে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় আছিয়া বেগম বলেন, ‘আমি খুবই খুশি হয়েছি। সহায়তা করার জন্য জেলা প্রশাসককে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানাই।’

এ সময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মাহমুদ জামান, সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইমরান মাহমুদ ডালিমস, সোশ্যাল ওয়ার্কার ফিরোজ হাসানসহ সাংবাদিকরা।

উল্লেখ্য, হাইমচরে উপজেলার ৩নং আলগী দুর্গাপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের পূর্বচর কৃষ্ণপুর গ্রামের নদীর তীরে একটি তাঁবুতে দীর্ঘ ১৫ বছর বসবাস করেন আছিয়া বেগম। তার স্বামী গনি মাঝি স্থানীয় বাসিন্দা ছিলেন। স্বামীও হারিয়েছেন ১৫ বছর আগেই। তার মৃত্যুর পর একমাত্র ভিটে-মাটিও কেড়ে নিয়েছে মেঘনার ভয়াল থাবা।

সবকিছু হারিয়ে একমাত্র মেয়েটিকে নিয়ে জীবন সংগ্রামে নেমেছিলেন আছিয়া বেগম (৪৯)। নদীর পাড়ে ছোট্ট একটি জরাজীর্ণ তাঁবু বানিয়ে মাথা গোঁজার জন্য কোনো রকম ব্যবস্থা করেছিলেন। দেখতে দেখতে সেখানেই ১৫ বছর পার করে দিলেন।

এমআরএম/এমএস