গাজীপুরে বিয়ের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় এক নারীকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করেছেন সৈজ উদ্দিন খান (৭০) নামের এক বৃদ্ধ। এ ঘটনায় তাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (১০ জুন) মৌলভীবাজারের বড়লেখা থানাধীন গৌবিন্দপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে গাজীপুর মেট্রোপলিটন টঙ্গী পূর্ব থানা পুলিশ।
গ্রেফতার সৈজ উদ্দিন টঙ্গী পূর্ব থানার নীলাচল রোডের আলমগীরের বাড়ির ভাড়াটিয়া।
নিহত নারীর নাম স্বপ্না রায় ওরফে ফাতেমা আক্তার সুমি (৩০)।
টঙ্গী পূর্ব থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শেখ সজল হোসেন জানান, স্বপ্না রায় আট বছর আগে হিন্দুধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। তিনি বিভিন্ন মেসে রান্না করা খাবার সরবরাহ করতেন।
গত ১৬ মে সকালে স্বপ্না রায় বাসা থেকে কাজের উদ্দেশে বের হয়ে সকাল পৌনে ৭টার দিকে টঙ্গী পূর্ব থানাধীন দত্তপাড়া হাউজ বিল্ডিংয়ের শাহাদাতের বাড়ির সামনে আসেন। এসময় সেখানে আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা সৈজ উদ্দিন ছুড়ি দিয়ে তার ডান পায়ের উরুতে আঘাত করেন। এতে স্বপ্না গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে টঙ্গী হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় একই দিন নিহতের মেয়ে তুলি বাদী হয়ে টঙ্গী পূর্ব থানায় মামলা করেন।
মামলার পর পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আসামির অবস্থান শনাক্ত করে মৌলভীবাজারের বড়লেখা থানাধীন গৌবিন্দপুর গ্রামের পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে নির্মাণ শ্রমিকের কাজ করার সময় সৈজ উদ্দিনকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তার দেয়া তথ্য অনুযায়ী, টঙ্গীর পূর্ব থানাধীন দত্তপাড়া ইসলামপুর এলাকার মোছা. জাহানারা বেগমের রান্নাঘরের শেডের ওপর থেকে হত্যার কাজে ব্যবহৃত রক্তমাখা ছুরি উদ্ধার করে পুলিশ।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামি জানান, তিনি স্বপ্না রায়কে পছন্দ করতেন। বিয়ের প্রস্তাব দিলে স্বপ্না তা প্রত্যাখ্যান করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে স্বপ্নাকে হত্যা করার পরিকল্পনা করেন তিনি।
এরপর হামলার দিন স্বপ্না রায়কে ডান পায়ের উরুতে ধারালো চাকু দিয়ে আঘাত করে পালিয়ে যান সৈজ উদ্দিন। পরবর্তীতে তিনি জানতে পারেন স্বপ্না রায় মারা গেছেন।
আমিনুল ইসলাম/এসএমএম/এএসএম