কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার রাজাখালীতে রেখা (১৪) নামে এক কিশোরী বিষপানে আত্মহত্যা করেছে। সে ওই এলাকার আইয়ূব আলীর মেয়ে।
শনিবার (২৪ জুলাই) ভোর রাতে সে বিষপান করে। পরে তাকে হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। রেখা রাজাখালী সিনিয়র মাদরাসার অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী ছিল।
তবে ওই কিশোরীর পরিবারের অভিযোগ, গ্রামের তিন বখাটের ধর্ষণের শিকার হওয়ায় অপমান সইতে না পেরে সে বিষপানে আত্মহত্যা করেছে।
আইয়ূব আলী জানান, শুক্রবার রাতে তিনি এবং তার স্ত্রী বাঁশখালীর পুঁইছড়িতে আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিলেন। শনিবার ভোরে তার ছেলে রাসেল ফোন দিয়ে জানায়- তার বোন রেখা বিষপান করেছে। পরে তাকে হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
আইয়ূব আলী বলেন, ‘বাড়ি ফিরে প্রতিবেশীদের কাছে জানতে পারি- শুক্রবার রাত ১১টার দিকে এলাকার তিন বখাটে আমার মেয়েকে বাড়ি থেকে জোর করে তুলে নিয়ে যায়। পরে মাছের ঘেরে তাকে ধর্ষণ করে। সে চিৎকার করলে স্থানীয়রা গিয়ে তাকে উদ্ধার করে বাড়িতে রেখে যায়।’
মৃত কিশোরীর বাবার দাবি, অপমান সইতে না পেরে তার মেয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছে। একই এলাকার মৃত বাদশার ছেলে আলমগীর, নুরুল হকের ছেলে রবি আলম ও বাঁশখালী ছনুয়া এলাকার মকসুদ আহমদের ছেলে আবুল কাশম মিলে তার মেয়েকে ধর্ষণ করেছে। অভিযুক্তরা বিভিন্ন সময় তার মেয়েকে হয়রানি করত বলেও অভিযোগ করেন আইয়ূব আলী।
পেকুয়া থানার ওসি (তদন্ত) কানন সরকার বলেন, ওই ছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় ওই ছাত্রীর বাবার দায়ের করা মামলাটি এখন ‘অপমৃত্যুর মামলা’ হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে ধর্ষণের সত্যতা মিললে মামলাটি ধর্ষণ মামলা আকারে রেকর্ড করা হবে।
সায়ীদ আলমগীর/এএএইচ