দেশজুড়ে

করোনা রোগী ভর্তি না করায় চিকিৎসকের ওপর হামলা, কুমিল্লায় তোলপাড়

কুমিল্লায় একটি বেসরকারি হাসপাতালে করোনা রোগী ভর্তি না করায় রোগীর স্বজনদের মারধরের শিকার হয়েছেন তানভীর নামে এক চিকিৎসক। এছাড়া হাসপাতাল ভাংচুরসহ দায়িত্বরত একাধিক কর্মকর্তার ওপরও হামলা চালানো হয়েছে।

Advertisement

হামলার একটি ভিডিও ফুটেজ ভাইরাল হয়েছে। এ নিয়ে কুমিল্লার বিভিন্ন মহলে তোলপাড় শুরু হয়েছে। ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চেয়েছেন কুমিল্লা সিভিল সার্জনসহ জেলায় কর্মরত চিকিৎসকরা।

রোববার (২৫ জুলাই) রাত ৯টায় নগরীর নোয়াপাড়া এএফসি ফরটিস হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে। রাত ২টায় হামলার শিকার চিকিৎসক তানভীর আকবর নিজে বাদী হয়ে তিনজনসহ অজ্ঞাত পাঁচজনের নামে মামলা করেন। পুলিশ অভিযান চালিয়ে রাতেই অভিযুক্ত মো. অনন্তকে (২৫) আটক করেন।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, করোনায় আক্রান্ত হোসাইনের অবস্থা খারাপ হওয়ায় কুমিল্লা সদর হাসপাতালের করোনা ইউনিট থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল বা ঢাকায় আইসিইউ স্থানান্তরের নির্দেশনা দেয়া হয়। কিন্তু রোগীর স্বজন কোথাও আইসিইউ না পেয়ে রোববার রাত সাড়ে ৮টায় ফরটিস হাসপাতালে জরুরি বিভাগে নিয়ে আসেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ রোগীকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ভর্তি নিতে রাজি হয়নি। রোগীর স্বজনরা জোরপূর্বক চাপ প্রয়োগ করে। বাগবিতণ্ডার এক পর্যায়ে পাঁচ-ছয়জন মিলে চিকিৎসক তানভীরকে কিল-ঘুষি মাররত থাকে। পরে লাঠি দিয়ে মারধর করা হয়।

Advertisement

এ বিষয়ে ডা. তানভীর আকবর সোমবার (২৬ জুলাই) রাতে জাগো নিউজকে জানান, জরুরি বিভাগে রোগীটি আসার পর চেকআপ করি। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় সঙ্গে আসা স্বজনদের উন্নত চিকিৎসার জন্য হাই ফ্লু ন্যাজাল ক্যানুলা ও আইসিইউসমৃদ্ধ হাসপাতালে যাওয়ার পরামর্শ দেয়া হয়। কিন্তু তারা হসপিটালে ভর্তির জন্য বারবার চাপ প্রয়োগ করে। এক পর্যায়ে আমার ওপর অতর্কিত হামলা করে।

এ সময় আমাকে বাঁচাতে আসলে হাসপাতালের আরও কয়েকজন কর্মকর্তাকে মারধর করা হয়। এছাড়া হাসপাতালের সম্পদের ক্ষতিসাধন করে ও অক্সিজেন সিলিন্ডার নিয়ে সটকে পড়ে। এ ঘটনায় আমি রাতেই কোতোয়ালি থানায় মামলা করি। এ ঘটনার সাথে জড়িতদের সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন তিনি।

কুমিল্লা বিএমএ সাধারণ সম্পাদক ডা. মো. আতাউর রহমান জসীম বলেন, করোনার অতি মহামারিতে কর্তব্যরত চিকিৎসকের ওপর হামলার তীব্র নিন্দা এবং দায়ী ব্যক্তিদের শাস্তির দাবি জানাই। দ্রুত এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত সবাইকে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা না করলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন তিনি।

এছাড়া একাধিক চিকিৎসক বলেন, আমাদের ওপর অন্যায় কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না। কুমিল্লার চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা ক্ষুব্ধ হয়োর আগেই এর সঠিক বিচার চাই।

Advertisement

কুমিল্লা জেলা সিভিল সার্জন ডা. মীর মোবারক হোসাইন বলেন, ডা. তানভীর আকবরের সঙ্গে যে ঘটনা ঘটেছে তা অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা এ হামলার সুষ্ঠু বিচার আশা করছি।

কোতোয়ালি মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কমল কৃষ্ণধর বলেন, মামলার পর রাতেই অভিযান চালিয়ে হামলার সঙ্গে জড়িত একজনকে আটক করি। সিসি ক্যামেরা ফুটেজ দেখে অন্য আসামিদের গ্রেফতারে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

এমআরএম