পদ্মা নদীতে আবারও ধরা পড়ল বিলুপ্তপ্রায় ‘বামুস’ মাছ। দেড় ফুট লম্বা এই মাছটির ওজন এক কেজি।
বুধবার (২৮ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রাজবাড়ীর দৌলতদিয়ায় ৫ নম্বর ফেরিঘাট এলাকায় মৎস্য শিকারি আইনদ্দিনের বড়শিতে মাছটি ধরা পড়ে।
বিলুপ্তপ্রায় মাছটি স্থানীয় মানুষের কাছে ‘বাঙ্গোশ’ নামে পরিচিত। বর্তমান প্রজন্মের অনেকেই মাছটির নামই জানে না। চোখেও দেখেনি কখনো। হাট-বাজারেও তেমন দেখা মেলে না মাছটির। তাই বুধবার নদীতে ধরা পড়া বিরল প্রজাতির মাছটি দেখতে ভিড় করেন স্থানীয়রা।
শৌখিন মৎস্য শিকারি আইনদ্দিন বলেন, ‘শখের বসে মাছ ধরতে বড়শি নিয়ে মাঝে মধ্যেই নদীতে আসি। বিভিন্ন ধরনের মাছও পাই। কিন্তু আজ প্রথম বামুস মাছ পেয়েছি। শুনেছি মাছটি অনেক সুস্বাদু। তাই পরিবারের সবাইকে নিয়ে খাব।’
এর আগে. মঙ্গলবার (২৭ জুলাই) সকালে পদ্মা নদীতে জেলে বাচ্চু মিয়ার চায়না দোয়ারিতে (মাছ ধরার যন্ত্র) মাছটি ধরা পড়ে। প্রায় ৩ ফুট লম্বা মাছটির ওজন ছিল ৩ কেজি ২০০ গ্রাম। পরে মাছটি বিক্রির জন্য দৌলতদিয়া বাজারে নিয়ে এলে মাছ ব্যবসায়ী সম্রাট শাহজাহান শেখ ১ হাজার ১০০ টাকা কেজি দরে তিন হাজার ৫২০ টাকায় কিনে নেন।
রাজবাড়ী জেলা মৎস্য কর্মকর্তা জয়দেব পাল বলেন, ‘বামুস মাছ মিঠাপানিতে অবস্থান করে। এই মাছগুলো গোপালগঞ্জ, নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ ও সিলেট অঞ্চলে পাওয়া যায়। পদ্মা নদী যখন উত্তাল থাকে তখন মাঝে মধ্যে এই মাছ দু-একটা দেখা মেলে। এরা খুব শক্তিশালী। এদের ওজন ৮-১০ কেজি পর্যন্ত হয়ে থাকে। দামও অনেক।’
তিনি আরও বলেন, ‘দেশে ৭৫৯ প্রজাতির মাছ রয়েছে। এর মধ্যে সমুদ্রে ৪৭৫ ও মিঠাপানিতে ২৬০ প্রজাতি এবং ফ্রেশ পানিতে ২৪ প্রকার চিংড়ি মাছ পাওয়া যায়।’
রুবেলুর রহমান/এসজে/জেআইএম