ফেনীতে একদিনে টিকা পেয়েছেন ৩০ হাজার ৭৩৪ জন। দিনভর জেলার ৬ উপজেলায় ১৫২টি ভ্যাকসিন বুথে এসব ব্যক্তি টিকাগ্রহণ করেন। তবে টিকার বরাদ্দ কম থাকায় কেন্দ্রে এসে না দিয়েই অনেক ব্যক্তিকে ফেরৎ যেতে দেখা গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, জেলার ৬টি উপজেলার সব ইউনিয়ন ও পৌরসভার জনগুরুত্বপূর্ণ স্থানে ১৫২টি বুথ বসানো হয়। সকাল ৯টা থেকে বিকেল পর্যন্ত স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মী ও স্বেচ্ছাসেবকরা বিরতিহীন ভ্যাকসিন কার্যক্রম চালিয়ে যান।
এর আগে, শনিবার সকালে ফিতা কেটে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য নিজাম উদ্দিন হাজারী। ফেনী পৌরসভা মিলনায়তনে এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মাঝে জেলা প্রশাসক আবু সেলিম মাহমুদ উল হাসান, সিভিল সার্জন ডা. রফিক উস ছালেহীন, ফেনী পৌরসভার মেয়র নজরুল ইসলাম স্বপন মিয়াজী, বিএমএ সভাপতি অধ্যাপক ডা. সাহেদুল ইসলাম ভূঞা কাওসার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার থোয়াই অংপ্রু মারমা, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাসরীন সুলতানা, সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. এসএসআর মাসুদ রানা, ফেনী পৌরসভার মেডিকেল অফিসার ডা. কৃষ্ণপদ সাহা ও সচিব সৈয়দ আবু জর গিফরী।
ফেনী পৌরসভার মেয়র নজরুল ইসলাম স্বপন মিয়াজী জানান, ফেনী পৌরসভার প্রতিটি ওয়ার্ডে করোনা টিকাদানের কার্যক্রম চলছে। আমাদের বুথে টিকাগ্রহণকারীদের জনপ্রতি একটি মাস্ক, এক বোতল পানি ও বিস্কিট দেয়া হচ্ছে। পৌরসভার সকল ওয়ার্ডেই দিনভর এ কার্যক্রম চলমান ছিল।
জেলা ইপিআই সুপার সিরাজুল ইসলাম জানান, জেলার সকল ইউনিয়ন ও পৌরসভায় একযোগে ১৫২টি বুথে টিকাদান কার্যক্রম পরিচালিত হয়। প্রতিটি বুথে ২শ ব্যক্তিকে করোনা টিকা দিতে দুইজন টিকাদানকারী ও তিনজন স্বেচ্ছাসেবক দায়িত্বে ছিলেন।
এছাড়াও টিকাদান কার্যক্রম প্রত্যক্ষ করার জন্য প্রতিটি কেন্দ্রে একজন করে সুপারভাইজার নিয়োজিত রয়েছেন।
এছাড়াও টিকাদান কার্যক্রমে সহযোগিতা করতে সকল কেন্দ্র ও বুথে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকমীরা উপস্থিত ছিলেন।
তিনি আর জানান, জেলাজুড়ে দিনভর ৩০ হাজার ৭৩৪ ব্যক্তিকে করোনার ভ্যাকসিনের প্রথম ডোজ দেয়া হয়েছে। তবে জেলায় আরো বেশি ভ্যাকসিনের চাহিদা ছিল।
জেলা সিভিল সার্জন ডা. রফিক উস সালেহীন জানান, সরকারি নির্দেশনা ও বরাদ্দের আলোকে ফেনীতে সিনোফার্মা টিকা দেয়া হয়েছে। বৃষ্টি উপেক্ষা করে দিনভর স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি সরকারী কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিদের সহায়তায় এ কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
তিনি জানান, রোববার থেকে গণটিকা কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও নিবন্ধিত ব্যক্তিদের ম্যাসেজ প্রাপ্তি সাপেক্ষে স্থায়ী ভ্যাকসিন কেন্দ্রগুলোতে টিকাদান কার্যক্রম চলবে।
এমআরএম