দেশজুড়ে

আবাদি জমির জলাবদ্ধতা নিরসনে এগিয়ে এলেন ওসি

পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার গাঙ্গহাটি গ্রামে বাড়ির সীমানায় থাকা জমিতে বাঁধ দেন এক ব্যক্তি। পানি নিষ্কাশন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আশপাশে থাকা ১৫ জন কৃষকের আবাদি জমিতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এতে শেষ সময়ে আমনের চারা রোপণ নিয়ে বিপাকে পড়েছেন তারা।

অভিযোগ পেয়ে বিষয়টি সমাধানে আতাইকুলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জালাল উদ্দিন। উভয় পক্ষের সঙ্গে বসে বিকল্প পথে পাইপ দিয়ে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করে দেন। এতে প্রাণ ফিরে পেয়েছেন ভুক্তভোগী কৃষকরা।

গাঙ্গহাটি গ্রামের চাষি আবু সাঈদ জানান, তাদের গ্রামের এক ব্যক্ত নিজের জমিতে বাঁধ দেন। এতে গ্রামে তারসহ ফুল চাঁদ, মোজাহার আলী, মো. রতন, আফতাব খাঁন, আব্দুল্লাহ, আব্দুল আউয়াল, ইউনুস আলী, চাঁদ আলী, আবুল কাশেমসহ বেশ কিছু কৃষকের জমিতে পানি জমে যায়। এতে চলতি মৌসুমে তারা ধান আবাদ করতে পারছিলেন না। এছাড়া গ্রামের হোসেন প্রামাণিক, রতন আলী, নবাব আল, আব্দুল মান্নানসহ কয়েকজনের বাড়িতেও জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এ নিয়ে গ্রামে দেখা দেয় ক্ষোভ।

জলাবদ্ধতার শিকার হওয়া চাষিরা জানান, জমিতে জলাবদ্ধতার বিষয়টি তারা স্থানীয়ভাবে সমাধানের চেষ্টা করেন। কিন্তু সমাধান হচ্ছিল না। জমিতে ধান রোপণের সময়ও চলে যাচ্ছিল বলে তারা চিন্তিত হয়ে পড়েন। এ পরিস্থিতিতে তারা শনিবার (৭ আগস্ট) দুপুরে আতাইকুলা থানায় গিয়ে ওসির কাছে তাদের সমস্যা তুলে ধরেন।

বিকেলে ওসি নিজেই গাঙ্গহাটি গ্রামে আসেন। তিনি জলাবদ্ধতার শিকার চাষি এবং বাঁধ দেয়া ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলেন। পানি নিষ্কাশনের জায়গায় যেখানে বাঁধ রয়েছে সেখান থেকে পাইপের মাধ্যমে বিকল্প ব্যবস্থায় পানি অপসারণের প্রস্তাব দেন। ওসির সিদ্ধান্ত সবাই মেনে নেন। জমি জলাবদ্ধতার শিকার চাষিরা রোববার (৮ আগস্ট) দিনভর স্বেচ্ছাশ্রমে পাইপ বসিয়ে পানি নিষ্কাশনের কাজ করেন।

কুষকরা জানান, থানায় গেলে এত দ্রুত কাজ হবে তা তারা আগে ভাবেননি। ধান আবাদ করতে না পারলে তারা ক্ষতির শিকার হবেন। এছাড়া অন্য সময়েও বৃষ্টি হলে পানি আটকে গিয়ে জলাবদ্ধতা হত। এখন সে ক্ষতি থেকে তারা রক্ষা পাবেন বলর আশা করছেন। থানার ওসির আন্তরিকতায় ও তাৎক্ষণিক পদক্ষেপে তারা খুশি। আতাইকুলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) জালাল উদ্দিন জানান, চাষিদের কাছ থেকে সমস্যার কথা শোনার পরই সমাধানের কথা ভাবেন। ওই গ্রাম সরেজমিন পরিদর্শনে যান। তিনি বিবাদমান দুটি পক্ষের কাছে পাইপের মাধ্যমে বিকল্প পথে পানি নিষ্কাশনের প্রস্তাব দেন। এতে জলাবদ্ধতার শিকার চাষিরা সম্মত হন।

ওসি আরও জানান, মানুষ যেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে এসে খুব সহজেই সাহায্য-সহযোগিতা পান সে চেষ্টা করে যাচ্ছেন। এখানকার আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা করা তার কর্তব্য। সেই দায়িত্ববোধ থেকেই তিনি কাজটি করেছেন। গ্রামের একটি বিবাদমান বিষয় খুব সহজে সমাধান করতে পারায় তিনি নিজেও আনন্দিত।

আমিন ইসলাম জুয়েল/এসজে/এমএস