দেশজুড়ে

মা-বাবাকে কুপিয়ে জখম করে মাদকাসক্ত ছেলের আত্মহত্যার চেষ্টা

চুয়াডাঙ্গায় মা-বাবাকে কুপিয় জখম করার পর আত্মহত্যার চেষ্টা চালিয়েছেন মাদকাসক্ত এক ছেলে।

বুধবার (১১ আগস্ট) রাত ১০টার দিকে চুয়াডাঙ্গা পৌর শহরের বেলগাছি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় সোহেল (২০) নামের ওই যুবককে উদ্ধার করে নিজেদের হেফাজতে নেয় পুলিশ।

সোহেল চুয়াডাঙ্গা সদর থানাধীন বেলগাছি গ্রামের বক্সারপাড়ার মো. আসাবুল ও শাবানা দম্পতির একমাত্র ছেলে। তিনি পেশায় একজন রাজমিস্ত্রি।

পুলিশ জানায়, রাজমিস্ত্রির কাজ করে উপার্জিত টাকার বেশিরভাগই সোহেল নেশার পেছনে খরচ করেন। ছেলে নেশাগ্রস্ত হওয়ায় বাধ্য হয়ে এর আগে তাকে পুলিশের হাতে তুলে দেন তার মা-বাবা। কিন্তু জেল থেকে বের হয়ে আসার পর সোহেল আবারো নেশার জগতে ফিরে যান। বুধবার রাতে নেশা করে বাড়িতে ফিরে এলে সোহেলের মা তার কাছে বাজার করার জন্য ২০০ টাকা চান। এতে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে বাগবিতণ্ডা শুরু করেন এবং হাঁসুয়া দিয়ে কুপিয়ে তার মা ও বাবাকে জখম করেন।

এসময় প্রতিবেশীরা এগিয়ে এলে সোহেল নিজের ঘরের মধ্যে প্রবেশ করে ভেতর থেকে দরজা-জানালা বন্ধ করে দেন। পরে ঘরে থাকা জিনিসপত্রে আগুন জ্বালিয়ে নিজেকে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা চালান।

সোহেলের ঘর থেকে ধোঁয়া বের হলে উপস্থিত লোকজন চিৎকার চেঁচামেচি শুরু করেন এবং চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় খবর দেন। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. জাহাঙ্গীর আলম, সদর থানার ওসি আবু জিহাদ ফকরুল আলম খানসহ পুলিশের ১০-১২ সদস্যের একটি টিম।

সোহেল ঘরের দরজা খুলছিলেন না। পরে ঘরের ওপর থেকে ইটের বেড়া ভেঙে ঘরের মধ্যে প্রবেশ করে সোহেলকে আগুনের হাত থেকে জীবিত উদ্ধার করেন পুলিশ সদস্যরা।

চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু জিহাদ ফকরুল আলম খান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এ ঘটনায় পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন।

সালাউদ্দীন কাজল/এসআর

০১৭১১ ১৯৮৭৮৪