দীর্ঘদিন ক্যান্সারের সঙ্গে লড়ে অবশেষে হেরে গেলেন কক্সবাজারের পর্যটন উদ্যোক্তা শফিকুর রহমান কোম্পানি (৬৫)। রোববার (১৫ আগস্ট) রাত ১টার দিকে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান বলে জানিয়েছেন কক্সবাজার পৌরসভার প্যানেল মেয়র শাহেনা আখতার পাখি।
শফিকুর রহমান মধ্যম নুনিয়ারছরা এলাকার মৃত সৈয়দ আলমের ছেলে ও স্থানীয় সমাজ কমিটির সভাপতি। তিনি কক্সবাজার হোটেল-মোটেল জোনের সর্বপ্রথম আধুনিক গেস্ট হাউস ‘জিয়া গেস্ট ইনের’ মালিক এবং কক্সবাজারের বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী ও ফেডারেশন অব ট্যুরিজম সার্ভিসেস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। এছাড়াও তিনি কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের চলতি কমিটির উপদেষ্টা ও জেলার ক্রীড়া সংগঠক।
কাউন্সিলর পাখি জানান, পর্যটনের পরিচিত মুখ শফিকুর রহমান কোম্পানি মরণব্যাধি ক্যান্সারে আক্রান্ত হন বছর তিনেক আগে। চিকিৎসকের পরামর্শে তিনি ভারতসহ নানা জায়গায় চিকিৎসা নেন। কিন্তু তার অবস্থার উন্নতি হয়নি। শারীরিক অবস্থা খারাপ হতে থাকায় বেশ কিছুদিন ধরে তাকে ঢাকার ডেল্টা হাসপাতালে রেখে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছিল।
শফিক কোম্পানি কক্সবাজার হোটেল-গেস্ট হাউস মালিক সমিতি, রেস্তোরাঁ মালিক সমিতিসহ অনেক ধর্মীয় ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃত্বে ছিলেন। জড়িত ছিলেন ক্রীড়াঙ্গনের সঙ্গে। অসহায় হতদরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়ানোই ছিল শফিকুর রহমান কোম্পানির নিত্য কাজ। পর্যটন নগরীতে তার সরব পদচারণা সবাইকে মাতিয়ে রাখতো। পর্যটনের স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট সব বিষয়ে সরব উপস্থিতিতে এগিয়ে এসে ভূমিকা রাখতেন। তার অকাল বিদায়ে পুরো পর্যটন শহর শোকাহত। পর্যটনে তার বিনিয়োগ আজন্ম স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
এ পর্যটন উদ্যোক্তা, রাজনীতিক ও ক্রীড়া সংগঠকের মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও পৌর মেয়র মুজিবুর রহমান, জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক জসিম উদ্দিন, কক্সবাজার হোটেল-মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি লায়ন এম এন করিম, কক্সবাজার হোটেল-গেস্ট হাউস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম সিকদার, কক্সবাজার রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি রাসেল চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক সায়ীদ আলমগীরসহ রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতারা।
সায়ীদ আলমগীর/এমএসএম/জিকেএস/এমআরএম