দেশজুড়ে

গাজীপুরের মহাসড়কে নিত্যদিনের সঙ্গী যানজট, ভোগান্তি চরমে

র‌্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্পের কাজ চলমান থাকায় গাজীপুরের মহাসড়কে যানজট এখন নিত্যদিনের সঙ্গী। গাজীপুর চান্দনা চৌরাস্তা থেকে টঙ্গী পর্যন্ত ১২ কিলোমিটার সড়কে প্রতিদিন যানজট লেগেই থাকে।

ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের এ যানজটের প্রভাব পড়ে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক ও ঢাকা বাইপাস সড়কে। প্রতিদিন এ দুর্বিষহ যানজটের কারণে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠছেন চলাচলকারী যাত্রী ও পরিবহন চালক-মালিকরা।

পরিবহন সংশ্লিষ্টদের দাবি, লকডাউন চলাকালে সড়কে যানবাহন ছিল না। এ সময়ে বিআরটি বিশেষ উদ্যোগ নিয়ে সড়কটি সম্পূর্ণরূপে সচল করতে পারতো। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মানুষের দুর্ভোগকে আমলেই নিচ্ছে না। এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো কার্যকরী পদেক্ষেপও চোখে পড়ছে না। যানজটের কারণে এ রোডে চলাচলকারী মানুষের প্রতিদিন পাঁচ-ছয় ঘণ্টা করে কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (২৬ আগস্ট) সকাল থেকে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের চান্দনা চৌরাস্তা থেকে টঙ্গী পর্যন্ত সড়কের উভয় দিকে যানজট দেখা যায়। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এ যানজট আরও তীব্র হয়। যানজট নিরসনে মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে কাজ করছেন ট্রাফিক পুলিশের সদস্যরা। কিন্তু খানাখন্দে ভরা সড়কে তাদের পদক্ষেপ কোনো কাজে আসছে বলে অভিযোগ যাতায়াতকারীদের।

বিভিন্ন স্থানে জোড়াতালি দিয়ে সড়ক মেরামত করা হলেও তা একদিন পরেই ফের আগের অবস্থায় চলে যাচ্ছে। ভাঙা গর্তে ইটের খোয়া ও বালি দিয়ে ভরাট করা হলেও বৃষ্টি হলে যানবাহনের চাকার ঘর্ষণে সেগুলো উঠে গিয়ে ফের গর্তের সৃষ্টি হচ্ছে। গাজীপুর চান্দনা চৌরাস্তা, ভোগড়া বাইপাস, বড়বাড়ি, তারগাছ, টঙ্গী কলেজ গেইট, চেরাগ আলী, মিলগেট, স্টেশন রোড ও টঙ্গী বাজার পর্যন্ত সড়কের অবস্থা খুবই করুণ।

বলাকা বাসের চালক লিয়াকত আলী বলেন, আগে যেখানে চার সিঙ্গেল বাস চালাতাম, যাজটের কারণে এখন সেখানে চালাতে হচ্ছে দুই সিঙ্গেল। এতে গাড়ির মালিক-স্টাফরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি।

ঢাকা থেকে ময়মনসিংহগামী বাসের চালক শফিকুল ইসলাম বলেন, সকাল ৬টায় মাত্র ১৫ জন যাত্রী নিয়ে মহাখালী থেকে রওয়ানা দিয়েছি। টঙ্গী থেকে চান্দনা চৌরাস্তা আসতে সময় লেগেছে চার ঘণ্টা। চার লেনের সড়কের বিভিন্ন জায়গায় দুই লেন এক লেন হয়ে যাওয়াতে তীব্র যানজট সৃষ্টি হচ্ছে।

তবে যানজটের বিষয়ে বিআরটি কর্তৃপক্ষের দায়িত্বশীল কেউ কোনো কথা বলতে রাজি হননি।

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক উত্তর) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, মহাসড়কের টঙ্গীর মিলগেট এলাকায় গাজীপুরমুখী লেনে অসংখ্য খানাখন্দ সৃষ্টি হয়েছে। গত কয়েকদিনের বৃষ্টিতে গর্তগুলো বড় হয়ে সড়কটি সংকুচিত হয়ে পড়েছে। এছাড়া মিলগেট থেকে চেরাগআলী পর্যন্ত মহাসড়কে কোনো ডিভাইডার নেই। সবমিলিয়ে গাজীপুরমুখী লেনে গাড়ি টানতে পারছে না ট্রাফিক পুলিশের সদস্যরা।

মো. আমিনুল ইসলাম/এসজে/এএসএম