দেশজুড়ে

ধর্মসাগরে চলছে মৎস্য শিকার উৎসব

ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে কুমিল্লার ঐতিহ্যবাহী ধর্মসাগরে চলছে মৎস্য শিকার উৎসব। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে শৌখিন মৎস্য শিকারিরা এ উৎসবে যোগে দিয়েছেন। উৎসবকে কেন্দ্র করে দিঘিরপাড়ে ভিড় করছেন শত শত মানুষ।

শুক্রবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে শুরু হয়েছে দুই দিনব্যাপী বড়শি ফেলে মাছ ধরার এ উৎসব।

শনিবার (৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নগরীর বাদুরতলা, ধর্মসাগরের পশ্চিম পাড়, শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্টেডিয়াম ও রানিরকুঠি অংশে গিয়ে দেখা যায়, প্রায় ৯০টি মাচায় বসে মাছ ধরায় ব্যস্ত চার শতাধিক শৌখিন মৎস্য শিকারি। কেউ দিঘিতে বড়শি ফেলে মাছ ধরার অপেক্ষা করছেন, কেউ মাছের খাবার বা টোপ তৈরি করছেন। কেউ আবার বড়শিতে ধরা মাছ রান্না করছেন মধ্যাহ্নভোজের জন্য। মাছ ধরা পড়লেই হইহুল্লোড় করে আনন্দে মেতে উঠছেন মৎস্য শিকারি ও দর্শনার্থীরা।

জেলা প্রশাসন সূত্র মতে, ১৪৫৮ সালে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের মহারাজ ধর্ম মাণিক্য বর্তমান কুমিল্লা নগরের ২৩ দশমিক ১৮ একর জায়গা দিঘি হিসেবে খনন করেন পানির সংকট মেটাতে। রাজার নাম অনুসারে এর নাম রাখা হয় ধর্মসাগর দিঘি। বর্তমানে এই দিঘি মাছ চাষের জন্য ইজারা নিয়েছেন কামরুজ্জামানসহ আরও কয়েকজন।

ইজারাদার কামরুজ্জামান জাগো নিউজকে বলেন, প্রতি বছর এসময়ে আমরা বড়শি ফেলে মাছ ধরা উৎসবের আয়োজন করে থাকি। আমাদের আয়োজনে ব্যাপক সাড়া দেন মৎস্য শিকারিরা। এবছর দিঘির চারপাশে ৯০টি মাচা তৈরি করা হয়েছে। প্রতি মাচায় পাঁচজন শিকারি বসতে পারেন। প্রতিটি টিকিটের মূল্য রাখা হয়েছে ১৭ হাজার টাকা।

এবারের উৎসবে ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগের বিভিন্ন জেলা থেকে শৌখিন মৎস্য শিকারিরা অংশ নিয়েছেন। দিঘিতে সর্বনিম্ন ৫০০ গ্রাম থেকে সর্বোচ্চ ১৫ কেজি পর্যন্ত রুই, কাতল, মৃগেল, ব্ল্যাক কার্প, কালিবাউস, কার্প, তেলাপিয়া ও বিগ হেড মাছ রয়েছে। শনিবার দুপুর পর্যন্ত সর্বোচ্চ ১০ কেজি ওজনের একটি ব্ল্যাক কার্প বড়শিতে ধরা পড়েছে বলে জানান তিনি।

জাহিদ পাটোয়ারী/ইউএইচ/এমআরএম/জিকেএস