দেশজুড়ে

আড়াই ঘণ্টার বৃষ্টিতে তলিয়ে গেলো কুমিল্লা নগরী

কুমিল্লায় মাত্র আড়াই ঘণ্টার বৃষ্টিতে পুরো নগরীতে দেখা দেয় ভয়াবহ জলাবদ্ধতা। তলিয়ে যায় নগরীর প্রধান সড়কগুলো। পানি ঢুকে পড়ে হাসপাতাল, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও মানুষের বাসা-বাড়িতে।

রোববার (৫ সেপ্টেম্বর) রাত ৯টা থেকে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত মাত্র আড়াই ঘণ্টার টানা বৃষ্টিতে এ জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়।

সরেজমিনে কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, নগরীর কান্দিরপাড়া থেকে রাজগঞ্জ সড়ক, টাউনহল মাঠ, লাকসাম রোড থেকে টমছম ব্রিজ পর্যন্ত, সদর হাসাপাতাল, নজরুল অ্যাভিনিউ সড়ক, কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড এলাকা, নগরীর দক্ষিণ চর্থা, মহিলা কলেজ রোড, পুলিশ লাইন, রেসকোর্স, ঠাকুরপাড়া, শাকতলা, চকবাজার থেকে কাপড়িয়াপট্টিসহ নগরীর বিভিন্ন এলাকার সড়ক বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে। এ ছাড়াও পানি ঢুকে পড়েছে মানুষের বাসা-বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে। ফলে জনজীবনে নেমে এসেছে দুর্ভোগ। পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন নগরবাসী।

হাবিবুর রহমান হৃদয় নামে নগরীর এক বাসিন্দা জাগো নিউজকে জানান, কুমিল্লা নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে সিটি করপোরেশনের সঠিক পরিকল্পনার অভাব রয়েছে। যার কারণে সামান্য বৃষ্টি হলেই নগরীতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। এতে নগরবাসীর যন্ত্রণা বেড়ে যায়।

সদর হাসপাতাল রোডের ফার্নিচার ব্যবসায়ী মারুফ হোসেন জাগো নিউজকে জানান, আড়াই ঘন্টার বৃষ্টিতে সড়কে পানি জমে দোকানে পানি ঢুকে পড়েছে। এতে বহু মালামাল নষ্ট হয়েছে। ফলে অনেক লোকসান গুনতে হবে। নগরীতে জলাবদ্ধতা নিরসন ব্যবসায়ীদের প্রাণের দাবি। এটি দ্রুত সমাধান করা না হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়বেন ব্যবসায়ীরা।

ঠাকুর পাড়া এলাকার জামাল হোসেন বলেন, ‘কুমিল্লায় বৃষ্টি মানে আমাদের দুর্ভোগ বেড়ে যাওয়া। সামান্য বৃষ্টিতে এলাকার সড়কগুলো পানির নিচে তলিয়ে যায়। বাসা-বাড়িতে পানি ঢুকে মালামাল নষ্ট হয়ে যায়। জলাবদ্ধতার স্থানী সমাধান করা দরকার।’

নগরীর দক্ষিণ চর্থার ভ্যানচালক আনোয়ার বলেন, ‘কামাই-রোজগার কম। নিচতলায় ভাড়া থাকি। কিন্তু বৃষ্টি হলে রাতে আর ঘুমানো যায় না। ঘরে পানি ঢুকে পড়ে। যার কারণে পরিবারের সবাইকে নিয়ে চকির ওপরে বসে রাত কাটাতে হয়।’

জলাবদ্ধতার বিষয়ে জানতে কুসিটি করপোরেশনের মেয়র মনিরুল হক সাক্কুকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

জাহিদ পাটোয়ারী/ এফআরএম/জিকেএস